প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১০:৪৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১, ২০২৩, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
প্রহেলিকা’র রহস্যময় ঝলকে মুগ্ধ

" হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে যারা
ভালোবেসে মরে যায় তারা "
বাংলা সিনেমায় সেমি ক্লাসিক্যাল ধাঁচের এই গান টি লক্ষ্য করা গেছে বহুদিন পর। তবে, 'প্রহেলিকা' সিনেমার নতুন এ গানটা কথা, সুর ও সংগীতে হৃদয় ছোয়া । বর্তমান টিপিক্যাল সব গান থেকে আধা-শাস্ত্রীয় সংগীত ঘরানার এই গানটি সংগীত প্রিয় মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় শুনতে বাধ্য।
সেমি ক্লাসিক্যাল বা আধা-শাস্ত্রীয় সংগীত কে ভাব সংগীত ও বলা হয়! কিশোর ও স্বরলিপির কন্ঠে 'হৃদয় দিয়ে' গানটার কথাগুলো লক্ষ্য করলেই এর ভাব অন্তর্নিহিত। গানের কথায় যেভাবে প্রেম থেকে বিচ্ছেদ উঠে এসেছে তা প্রশংসনীয়। তবে, মুগ্ধ না হওয়ার উপায় নেই নাসিরউদ্দিন খান ও বুবলীর রসায়ন দেখে!
"আমি তো নিজেই এসেছি যেচে
ভালোবেসে সেই কখন যেন
মরে গেছি।।
শুধু তোমার কাছেই আছি
আমি বেঁচে।। "
কি দারুন গানের কথা! যেন অনেক দিন পর সংগীত প্রিয় মানুষ খুঁজে পেল মনে রাখার মতো একটা লিরিক। শ্রদ্ধেয় আসিফ ইকবাল স্যার গান লিখছেন গত কয়েক যুগ ধরে, অন্যদিকে কিশোর দা তো ক্লোজ আপের নস্টালজিয়া। স্বরলিপির গলা শুনলে মনে হতে পারে অন্য কোন জাত শিল্পীর গাওয়া। এই তিন মিলে তৈরি হল 'হৃদয় দিয়ে'। নাসিরউদ্দিন খানের চোখে একইসাথে প্রতিহিংসা ও মিনতি। তাই তো তিনি গেয়ে উঠলেন-
অন্ধ আমি তুমি কার আয়না?
পথ বন্ধ হৃদয়, মানতে যে চায় না।
বুবলীর চোখে কান্না। মাহফুজের চোখে বেদনা। সবাই যেন ভালোবেসে মরে গেছে। শুধু ভালোবাসার পরশপাথরই তাদের বাঁচিয়ে রাখে যেন।
কেন জানি মনে হচ্ছে আসিফ স্যার অনেক বার স্ক্রিপ্ট পড়েছেন এই মনোমুগ্ধকর গান রচনার পূর্বে।গল্প আর প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গানগুলো একদম যথাযথ হয়েছে।
যেখানে রয়েছে ভালোবাসার আকুলতা, প্রিয়তা কে ধরে রাখার প্রবল তাড়না।।
"যে জগৎ আছে মন্দ আর ভালোর মাঝে
তোমার আমার মিলন সেখানে
সকাল দুপুর সাঁঝে।"
গানের সাথে নাসির উদ্দিন খানের অভিব্যক্তি, লিপ্সিং,হাঁটা দর্শক যেন এক মোহে চলে যায়।একজন ভালো অভিনেতার কাছ থেকেই সম্ভব হয়। তবে আমার কাছে মনে হয় সহ অভিনেত্রীর আর একটু সাপোর্ট এর দরকার ছিল।
ভালোবাসা হচ্ছে একটি আকাংখা, জীবনের একটা স্বপ্ন। ভালোবাসা মনের সুপ্ত বাসনা, হৃদয়ের অনুভূতি। তাই তো হৃদয় দিয়ে ভালোবেসে যায় ভালোবাসার মানুষরা, তার আবগাহনে ডুবে যায় প্রতিনিয়ত আবার এই ভালোবাসাই বাঁচিয়ে বাঁচিয়ে রাখে যুগ যুগ ধরে।
ধন্যবাদ আসিফ ইকবালকে, অসাধারণ এক গীতিকবিতার জন্য। চয়নিকা চৌধুরী দির 'প্রহেলিকা' ধীরে ধীরে 'ব্ল্যাক হর্স' এ পরিণত হচ্ছে। এর আগে তাঁর "বিশ্বসুন্দরী" বিভিন্ন শাখায় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করলেও সর্বমহলে প্রশংসিত ছিলো না সেভাবে। কিন্তু এবার হচ্ছে তিনি পূর্বের সব ভুলকে এখানে ইম্প্রুভ করেছেন। একজন নির্মাতার সবচেয়ে বড় গুণ এটাই হওয়া উচিৎ। পূর্বের কাজের ভুলভ্রান্তি যেন পরের কাজে না থাকে। এদিক থেকে মনে হচ্ছে চয়নিকা চৌধুরী সফল।নির্মাণ, গান, লোকেশন , আর্টিস্ট কোনোকিছুতে কমতি রাখছেন না। শুভকামনা দিদির জন্য।
Copyright © 2026 অন্য সময়. All rights reserved.