মোটর সাইকেল চুরির ঘটনায় মামুন নামের একজনকে পিটিয়ে হতার ঘটনায় তিন পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্ট নৈরাজ্যে পরে আরো হতাহতের বিষয়ে গণমাধ্যমকে প্রকৃত তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আনসার পুলিশ বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ টহল বজায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্ঠা তিন পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকার আহবান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানায়। এদিকে শুক্রবার বিজিবির একটি দল বান্দরবানের দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম করেছে।
আইএসপিআর জানায় : গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা সদরে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে মো. মামুন (৩০) নামে এক যুবক নিহত হন। সদর থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়। পরদিন বিকেলে দীঘিনালা কলেজ থেকে এঘটনার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বোয়ালখালী বাজার অতিক্রম করার সময় ইউপিডিএফের (মূল) কিছু সন্ত্রাসী মিছিলের ওপর হামলা করে ও ২০-৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে বিক্ষুব্ধ জনতা বোয়ালখালী বাজারের কয়েকটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এসময় উভয়পক্ষের ছয়জন আহত হয়। সেনাবাহিনীর টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফায়ার ব্রিগেড ও স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় আগুন নেভায়।
ওই ঘটনায় খাগড়াছড়ি জেলা সদরসহ আশেপাশের এলাকাসমূহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাকর করে তোলে। এঅবস্থায় দ্রুত জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জরুরি সভা হয়। ওই সভায় খাগড়াছড়ি জেলাসদরসহ সকল উপজেলায় সকল বাহিনীর যৌথভাবে টহল বজায় রাখার সিদ্ধান্ত এবং সকল কমিউনিটি লিডারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সকল পক্ষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। এছাড়া খাগড়াছড়ি জোনের একটি টহল দল রাত সাড়ে ১০টায় একজন মুমূর্ষ রোগীকে স্থানান্তরের সময় খাগড়াছড়ি স্বনির্ভর এলাকায় উত্তেজিত জনসাধারণ ইউপিডিএফের (মূল) নেতৃত্বে বাধা দেয়। এক সময় ইউপিডিএফের (মূল) সন্ত্রাসীরা সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপর গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় তিনজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয় বলে জানা যায়। এরই ধারাবাহিকতায় পানছড়িতে স্থানীয় উত্তেজিত জনসাধারণ কয়েকজন যুবকের মোটরসাইকেল থামিয়ে তাদের ওপর হামলা ও লাঠিপেটা করে। তারা ইউপিডিএফের (মূল) নেতৃত্বে ফায়ার ব্রিগেডের অফিসেও ভাঙচুর করে।
এদিকে ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে পিসিজেএসএস সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলা সদরে ‘সংঘাত ও বৈষম্যবিরোধী পাহাড়ি ছাত্র আন্দোলন’র ব্যানারে স্থানীয় জনসাধারণ রাঙ্গামাটি জিমনেশিয়াম এলাকায় সমবেত হয়। এ সময় ৮শ থেকে ১ হাজার লোক একটি মিছিল নিয়ে বনরুপা এলাকার দিকে যায় এবং মসজিদ, অফিস, যানবাহন এবং বেশকিছু দোকান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় উভয় পক্ষের বেশকিছু লোক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আনতে রাঙামাটি জেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এসকল ঘটনায় তিন পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ দাঙ্গায় রূপ নিতে পারে জানিয়ে আইএসপিআর, অনতিবিলম্বে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে। এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় : উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তিন পার্বত্য জেলায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানিয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের ঘটনায় সরকার গভীর দুঃখ প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখাতে এবং পার্বত্য তিন জেলায় বসবাসকারী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিতকরণে সরকার বদ্ধপরিকর।
বান্দরবানে অস্ত্র উদ্ধার : বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী দোপানিছড়া এলাকা সংলগ্ন গহিন জঙ্গলে একটি সন্ত্রাসী আস্তানা থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ড্রোন ও সিগন্যাল জ্যামারসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিজিবি সদরদপ্তরের জনসংযোগ শাখা এই তথ্য নিশ্চিত করেন।