
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক ছিলেন অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ। প্রচার বিমুখ মানুষটি নীরবে-নিভৃতে মানুষের উপকার করে গেছেন। তিনি ধারণ করেছেন মানবিকতা, দেশপ্রেম, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে। বহুমাত্রিক গুণ সম্পন্ন মানুষটি ছিলেন সবার কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্ব।দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অবদান অপরিসীম।
তিনি আরো বলেন, রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক বঙ্গবন্ধুকে খুবই ভালোবাসতেন।বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ছিলেন অবিচল। বঙ্গবন্ধু নামের উপাধির প্রণেতা হিসেবে মুশতাক চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় চট্টগ্রাম একাডেমি আয়োজিত ফয়েজ নুর নাহার মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু উপাধির প্রণেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক স্মরণানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি উপর্যুক্ত বক্তব্য রাখেন।
চট্টগ্রাম একাডমির সাবেক মহাপরিচালক সাহিত্যিক অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রীতা দত্ত। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক কবি ও শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ,চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকার সহ-সভাপতি মহিউল ইসলাম মহিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: আবদুল মাবুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, ড. সেলিম জাহাঙ্গীর,চট্টগ্রাম একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রাবন্ধিক নেছার আহমদ,গল্পকার বিপুল বড়ুয়া,গল্পকার নাসের রহমান, ছড়াকার আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী, সংগঠক মহসীন চৌধুরী,ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চট্টগ্রাম সমিতি- ঢাকার সাবেক দপ্তর সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকার জন্য অনেক কাজ করেছেন রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক। চট্টগ্রাম সমিতি ঢাকার আজকের অবস্থানের পেছনে তাঁর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তিনি কখনো নিজেকে জাহির করতেন না। পদ পদবীর জন্যও তাঁর কোন লোভ ছিল না। আমি ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন কালে তাঁর সহযোগিতা পেয়েছি। এ রকম একজন নির্লোভ-নিরহঙ্কার মানুষের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তাঁর জন্মস্থান আনোয়ারায় তাঁর নামে একটি সড়ক নামকরণ করা হবে। এছাড়া তাঁর বাড়ির সামনে একটি তোড়ণ নির্মাণের ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।
অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলম বলেন, জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু একটি সমার্থক শব্দ। এই বঙ্গবন্ধু উপাধির প্রণেতা ছিলেন রেজাউল হক চৌধুরী মুশতাক। তিনি ইতিহাসের একটি অংশ। তাঁর মতো একজন মানুষের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রয়োজন। তাই তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদানের জোর দাবি জানাচ্ছি।


