২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদঅন্য খবরপ্রয়াত হলেন সত্যজিৎ রায়রে একুশটি ছবির  সিনেমাটোগ্রাফার সৌমন্দেু রায়

প্রয়াত হলেন সত্যজিৎ রায়রে একুশটি ছবির  সিনেমাটোগ্রাফার সৌমন্দেু রায়

চলে গেলেন না ফেরার দেশে প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক সৌমেন্দু রায়।গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাড়ে বারোটা বালগিঞ্জ র্সাকুলার রোডে নজিরে বাসভবনইে মৃত্যু হয় তাঁর। তিনি।দীর্ঘদিন ভুগছিলেন বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা হয়।

মহান এই চিত্রগ্রাহক এর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল আরেক প্রতিভাবান চিত্রগ্রাহক রামানন্দ সেনগুপ্তের সহকারী হিসেবে।পরবর্তীতে সুব্রত মিত্রের সহকারী হিসেবেও কাজ করেছেন।তিনি স্বাধীনভাবে কাজ শুরু করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ‘তিনকন্যা’ ছবি থেকে।সত্যজিৎ রায়ের একুশটি ছবির চিত্রগ্রাহক হিসেবে কাজ করেছেন সৌমেন্দু রায়।সত্যজিৎ রায় ছাড়াও বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, তপন সিনহা,রাজা সেন,তরুণ মজুমদার প্রমুখদের  ছবিতেও ক‍্যামেরা সামলেছেন তিনি। অভিযান,অরণ‍্যের দিনরাত্রি, গুপী গাইন বাঘা বাইন,হীরক রাজার দেশে,শতরঞ্জ কে খিলাড়ি,অশনি সংকেত,আলোর পিপাসা,পলাতক,অভয়া ও শ্রীকান্ত, কুহেলী,নিধিরাম সর্দার, চরাচর,আত্মীয়স্বজন, এক ডঃ কী মৌত,অন্তর্ধান,হুইল চেয়ার ইত্যাদি অসংখ্য ছবির চিত্রগ্রাহক ছিলেন এই মানুষটি।

সত্যজিৎ রায় তাঁকে ‘রায়’ সম্বোধন করতেন। আর সত্যজিৎ প্রসঙ্গে কোনও প্রশ্ন করলেই সৌম্যেন্দু রায় হেসে উত্তর দিতেন, ‘‘মানিকদা ছিলেন মাই ডিয়ার মানুষ।’’

মহানায়ক উত্তমকুমারের সাথেও হৃদ্যতা ছিল তাঁর।মহানায়কের বেশকিছু ছবির সহকারী চিত্রগ্রাহক ছিলেন সৌমেন্দু রায়।-‘বৌ ঠাকুরাণীর হাট’,’দেবত্র’,’শাপমোচন’,’ইন্দ্রাণী’,’খেলাঘর’,’চাওয়া পাওয়া,’পুষ্পধনু’,’অবাক পৃথিবী’,’গলি থেকে রাজপথ’ প্রভৃতি এবং স্বাধীন চিত্রগ্রাহক হিসেবে তিনি কাজ করেছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমারের -‘চিড়িয়াখানা’,’নিধিরাম সর্দার’ ছবিতে।মহানায়ককে দেখেছিলেন খুব কাছ হতে।গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিল তাঁর মহানায়কের নিষ্ঠা,একাগ্রতা এবং সহজ সরল আন্তরিক ব্যবহারের প্রতি।

আলোছায়ার জগতের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে।পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক সম্মান।চারবার শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক হিসেবে চলচ্চিত্র জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছিলেন তিনি।

আলোছায়ার জাদুকর এই মহান চিত্রগ্রাহককে জানাই আমার অন্তরের সশ্রদ্ধ প্রণাম।এমন মানুষের পার্থিব শরীরখানি কালের অমোঘ নিয়মে পঞ্চভূতে লীন হবে কিন্তু শিল্পীর বিনাশ হয় না,শিল্পী বেঁচে থাকেন তাঁর সৃষ্টিতেই চির অমর হয়ে।সৌমেন্দু রায়ও অমর হয়ে থাকবেন তাঁর কর্মের মধ্যেই

নীচে সৌমেন্দু রায়ের প্রাপ্ত চারটি জাতীয় পুরস্কারের ছবি দিলাম।’অশনি সংকেত’,’সোনার কেল্লা’,’শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’ এবং ‘সুচিত্রা মিত্র তথ্যচিত্র’ এর জন্য চিত্রগ্রাহক হিসেবে তিনি এই জাতীয় পুরস্কারের সম্মান লাভ করেছিলেন।

সৌম্যেন্দু রায় অবিবাহিত ছিলেন। একাই থাকতেন। সঙ্গী ছিলেন বাড়ির দুই পরিচারক। ২০০০ সাল থেকে সেই ভাবে আর ক্যামেরার কাজ করেননি। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্থায় ছাত্রদের চলচ্চিত্র বিষয়ক পাঠ দিয়েছেন। পেয়েছেন দেশ-বিদেশের একাধিক সম্মান। সৌম্যেন্দু রায়ের প্রয়াণে টলিপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার সন্ধ্যায় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপস্থিত ছিলেন গৌতম ঘোষ, হরনাথ চক্রবর্তী, অভিজিৎ গুহ, সুদেষ্ণা রায়, প্রেমেন্দু বিকাশ চাকীর মতো টলিপাড়ার বিশিষ্ট পরিচালকরা।

সৌম্যেন্দু রায়ের প্রয়াণে সমাজমাধ্যমে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘‘বিশিষ্ট সিনেমাটোগ্রাফার সৌম্যেন্দু রায়ের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, ‘‘তিনি রূপকলা কেন্দ্রের উপদেষ্টা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ২০১২ সালে ‘বিশেষ চলচ্চিত্র পুরস্কার’ ও ২০১৫ সালে ‘চলচ্চিত্র পুরস্কার’ (সারা জীবনের অবদান) প্রদান করে। এ ছাড়া তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।’’

সর্বশেষ