১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দেশে দেশে ঈদ

ভারত, পাকিস্তান
ভারত, পাকিস্তানের ঈদ উদযাপনের রীতি অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। ভারতে ঈদের দিন স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটি, সরকারি অফিস আদালত এমনকি কিছু কিছু দোকান-পাট ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকে। রাষ্ট্রীয়ভাবে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ঈদগাহ ও বড় বড় জামে মসজিদগুলোতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। বড়দের সালাম দিয়ে ছোটরা পেয়ে থাকে ঈদের সালামি। খাবারের মধ্যে থাকে মাংস, পোলাও, রুটি, পরোটার মতো মজাদার ও মুখরোচক সব খাবার।
সৌদি আরব
সৌদি আরবে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয় ভিন্নভাবে। ঈদের দিন পুরুষেরা ‘কান্দর’ নামের সাদা পোশাক পরিধান করেন মাথায় দেয় ‘গাহফিহ’ নামের টুপি। নারীরা এই দিনে ‘থাউব’ নামের বিশেষ পোশাক পরে থাকেন। ঈদের দিন সৌদি মুসলিমরা বাজার থেকে বেশি পরিমাণে চাল কিনে আনেন। আর তা বাড়ির প্রবেশ দরজার বাইরে রেখে দেয়। যাতে অসহায় ও অভাবগ্রস্ত মানুষ তা নিয়ে প্রয়োজন মেটাতে পারেন। এছাড়াও এই দিনটিতে গরিবদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।
তুরস্ক
সাংস্কৃতিক প্রাচুর্য ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ তুরস্কে অত্যন্ত জমকালো উপায়ে ঈদ উদযাপন হয়ে থাকে। ঈদের দিনকে তুর্কীরা ‘রামাদান বেরামি’ বা রামাদান উৎসব ও ‘সেকার বেরামি’ বা মিষ্টির উৎসব বলে আখ্যায়িত করেন।
ইন্দোনেশিয়া
বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। ঈদের দিনকে ইন্দোনেশিয়ায় বলা হয় ‘হারি রায়া ঈদুল ফিতরি’। এ দিনটি ‘লেবারান’ হিসেবেও পরিচিত। ঈদের দিনে তারা বিগত বছরের কৃতকর্মের জন্য আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চায়। ঈদের এই বিশেষ দিনটিতে নারীরা পরে ‘কেবায়া কুরঙ্গ’ আর পুরুষরা পরে ‘বাজু কোকো’, যা সে দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
মালয়েশিয়া
ঈদের দিন মালয়েশিয়ার মুসলমানরা সে দেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী ওপেন হাউস পালন করে অর্থাৎ এদিন যে কেউ কারো বাড়িতে অতিথি হয়ে আসতে পারেন। মুখরোচক বিভিন্ন ধরনের খাবার রান্না হয় ঘরে ঘরে।
মিশর
ঈদ উদযাপনে পিরামিডের দেশ মিশর যেন অন্যান্য দেশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। এখানে ঈদ উদযাপন করা হয় টানা চার দিন। আর এই পুরো সময়টা জুড়ে মজাদার সব মাছের রান্না ঈদ উৎসবকে করে তোলে আরো প্রাণবন্ত।
আফগানিস্তান
ঈদের দিনে আফগানরা অতিথিদের খেতে দেন ‘জালেবি’ নামের এক বিশেষ খাবার। আর ‘তখম জাঙ্গি’ আফগানদের ঈদ উদযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘তখম জাঙ্গি’ হলো পুরুষেরা ফাঁকা ময়দানে একত্রিত হয়ে একজন আরেকজনের দিক সিদ্ধ ডিম ছোড়া।
ইরাক
রমজান এবং ঈদের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি উৎসবে ইরাকিরা খেজুরের উপর অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ‘ক্লাইচা’ নামের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার ইরাকে খুব প্রচলিত যা না থাকলে ইরাকিদের কোনো অনুষ্ঠানই পূর্ণতা পায় না। ক্লাইচা মূলত এক ধরনের কুকি যা বাদাম, খেজুর এবং গুলকন্দ দিয়ে বানানো হয়।
রাশিয়া
বিশ্বের সর্ববৃহৎ আয়তনের দেশ রাশিয়ায় ঈদ উদযাপন হয় ভাবগাম্ভীর্য আর আড়ম্বরপূর্ণভাবে। ঈদের দিন ঈদগাহে বসে নামাজ শেষে দেশবাসী ও মুসলিম জাহানে শান্তির জন্য দোয়া-মোনাজাত করা হয়। প্রিয়জনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া হয় উপহার দেওয়া-নেওয়ার মাধ্যমে।
সোমালিয়া
সোমালিয়ানদের কাছে ঈদ মানেই লোভনীয় সব মনোহর খাবার। সোমালিয়ার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ‘হালভো’ খুবই জনপ্রিয় যা বানানো হয় তেল, চিনি, কর্নস্টার্চ এবং হরেক রকমের মসলা মিশিয়ে। সোমালিয়ানরা ঈদের অনুষ্ঠানে হালভো থাকবেই থাকবে।
চীন
এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী এ দেশটির মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা জিনজিয়ান ও নিংজিয়া প্রদেশে ঈদ উপলক্ষ্যে তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। অন্যান্য প্রদেশেও সরকারি ছুটি থাকে একদিন করে। দেশটিতে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort