দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আজ রবিবার সকালে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। নিম্নচাপটি পরবর্তীতে গভীর হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির বিষয়ে নিজেদের দেওয়া পূর্বাভাস থেকে সরে এসেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারও তারা জানিয়েছিল, রবিবার দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই পূর্বাভাস থেকে সরে এসে আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান শনিবার (৬ মে) রাত পৌনে ৯টায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে যে লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল, তা সোম বা মঙ্গলবারে হতে পারে।
এর আগে বিকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছিলেন, এখনও বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়নি। রবিবার সকাল থেকে অথবা সন্ধ্যার মধ্যে সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানায়, রবিবার নিম্নচাপ তৈরি হলে তা আরও ঘনীভূত হয়ে সোমবার গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
এরপর আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে উত্তর দিক বরাবর মধ্য বঙ্গোপসাগরের দিকে অগ্রসর হবে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বঙ্গোপসাগরের ওই অংশেই নিম্নচাপ তৈরি হবে। তা ক্রমে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে উত্তর দিকে এগোবে। মধ্য বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নেবে ঘূর্ণিঝড়। মঙ্গলবার থেকে বুধবারের মধ্যে এ ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেছেন, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোখা সৃষ্টির প্রাথমিক পর্ব সৃষ্টি হওয়ার সব ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এটি আগামী সোম ও মঙ্গলবারের মধ্যে নিম্নচাপ ও গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পলাশ আরও বলেন, গতকাল শনিবার কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণ-পশ্চিমে উঁচু ও ঘন সঞ্চরণশীল মেঘবলয় সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এ মেঘ আরও বেশি সংগঠিত হতে থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মেটোস্যাট ৯ নামক কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত মেঘের চিত্রে দেখা গেছে, যে স্থানে বায়ুর ঘূর্ণন সৃষ্টি হয়েছে, তা ৮৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ও ৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।


