২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদসাহিত্যসিনেমার চরিত্র শুধু সিনেমার মধ্যে আবব্ধ

সিনেমার চরিত্র শুধু সিনেমার মধ্যে আবব্ধ

শিল্প সাহিত্যের সঙ্গে সত্যি জীবন জড়িয়ে থাকে। আর জীবন থেকে আসে সেইসব কাল্পনিকচরিত্র। কিন্তু এইযে আপনারা কোন ভিজ্যুয়াল গল্পের চরিত্রের জন্য অভিনেতার বাস্তব জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া করছেন। আপনি ভালো করেই জানেন একজন অভিনেতার কাজ হচ্ছে অভিনয় করা। অভিনয় করে চরিত্র হয়ে ওঠা। তার চরিত্রটা কখনো নেগেটিভ বা পজিটিভ হবে এটাই স্বাভাবিক। এখন অভিনেতা যদি নেগেটিভ শেডের চরিত্র করে এজন্য যদি গালি দেন, ফ্যামিলি নিয়ে কথা বলেন। একবার চিন্তা করে দেখেছেন আপনি ঠিক করছেন কিনা? একটু ভালোভাবে নিজেকে প্রশ্ন করুন। খোঁজ নিন আন্তজার্তিক ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির। মনগড়া কথা দিয়ে ক্যাচাল করবেন না। সুস্থ থাকতে দিন সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই কথাগুলো বলার কারণ রয়েছে। বিষয়টা খানিকটা খুলে বলছি। সম্প্রতি একজন অভিনেতার এক ওয়েব সিরিজে পারফরম্যান্স নিয়ে যেভাবে হচ্ছে আলোচনা ঠিক তেমনি ভাবে হচ্ছে সমালোচনা। এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই অভিনেতাকে যদি পার্সোনাল হ্যারাসমেন্ট করতে পোস্ট করেন। চরিত্রের সঙ্গে মানুষটাকে মিলিয়ে ফেলেন বাস্তব তার জীবন। প্রশ্ন তুলেন তার ব্যাক্তিগত ক্যারেক্টার নিয়ে। এটা আপনার করা ক্রাইম। চরিত্রের প্রয়োজনে একজন আর্টিস্ট নেগেটিভ ক্যারেক্টার প্লে করেন। শিল্পীর পর্দায় ফুটিয়ে তোলা চরিত্রের সঙ্গে বাস্তব জীবনে কিঞ্চিত পরিমাণ মিল খুঁজে পাওয়া মুশকিল। গল্পের প্রয়োজন চরিত্র কখনো ইতিবাচক হয় কখনো আবার হয়ে উঠে নেতিবাচক। এভাবেই ইন্ডাস্ট্রিতে তার জায়গাটা পাকাপোক্ত করেছেন। কাজ করছেন দেশের নামকরা সব ডিরেক্টরদের সঙ্গে। সেই অভিনেতার নাম নাসির উদ্দিন খান।
নাসির উদ্দিন খান বর্তমান সময়ের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা তা অস্বীকার করার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। যেখানে মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর মতো পরিচালক তাকে মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরীর পরে তাকে রেখেছেন। তিনি বাকি দুজনের সঙ্গে কাজ করেছেন। তার সঙ্গেও কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। তিনি
নিজের মেধার জানান দিয়েছেন প্রতিটি কাজে। চোর, ডোম, পুলিশ, মাফিয়াসহ রোমান্টিক দৃশ্যেও বাজিমাত করেছেন। শেষ বয়সে অভিনয়ে এসে।
আপনি কথাগুলোর পক্ষে যুক্তি দাঁড়া করতে পারেন আবার বিপক্ষেও যুক্তি দাঁড়া করাতে পারেন। কিন্তু আপনি এটা জেনে রাখেন নাসির উদ্দিন খান একটা পিউর ইন্সটিটিউশন। তাঁর রক্তে মিশে আছে অভিনয়। দীর্ঘ দুই যুগ ধরে অভিনয় করেছেন মঞ্চে এই ভদ্রলোক। আপনি তাঁর অভিনয় নিয়ে সমালোচনা না করে অন্য কিছু নিয়ে মাথা ঘামাবেন না।
‘মাইসেলফ অ্যালেন স্বপন’ সিরিজে অভিনয় করার পর থেকে তার চরিত্র নিয়ে শুরু হয়েছে নানান জনের নানান মতবাদ। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, শায়লার সঙ্গে অ্যালেন স্বপনের সম্পর্কটা অনেকেই নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। এমন একটা বিষয় কি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে? তিনি প্রশ্নের জবাবে এত সুন্দর উত্তর দেন, রীতিমতো সহজ ভাবে বুঝিয়ে বলেন বিষয়টা৷ নাসির উদ্দীন খান বলেন,
আসলে ইতিবাচক অনেক ঘটনাও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, আবার নেতিবাচক অনেক ঘটনা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন অ্যালেন স্বপন পরনারীর প্রতি আসক্ত, তাহলে ওটা দেখে কেন আমরা পরনারীর প্রতি আসক্তি শিখব? আমি তো এটাও শিখতে পারি যে পরনারীর প্রতি আসক্তি ঠিক না। কিংবা অ্যালেন স্বপন লোকটা এমন খারাপ যে সে তার স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নিজের অনেক আপনজনকেও হারিয়ে ফেলেছে। এটা দেখে কি আমরা এটাও শিখতে পারি না যে লোভ-লালসা বেশি থাকলে আপন মানুষকেও হারাতে হয়। আসলে এটা মানুষের ওপর ডিপেন্ড করবে, কে কীভাবে নিচ্ছে। এখানে আমরা যে সম্পর্কটা দেখছি, এটা গল্পের প্রয়োজনে রাইটার বা ডিরেক্টর এভাবে ডিজাইন করেছেন। এখানে অ্যালেন স্বপনের যে যমজ ভাই আছে, তার মধ্যে কিন্তু আমরা এ ধরনের কিছু পাইনি। সে তো গালিগালাজ পর্যন্ত করে না। তার উত্তরটা দুইবার মনোযোগ দিয়ে পড়লে বুঝতে পারবেন অশ্লীলতা মানেই নষ্ট না। আর একটা চরিত্র মানেই বাস্তবে তিনি এটা না।
বলিউডে সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘গাঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’ সিনেমাতে যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন আলিয়া ভাট। এবছর ভারতের ফিল্মফেয়ারে
অসাধারণ অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন এই অভিনেত্রী। সিনেমাটি দেখলে বুঝতে পারবেন গল্পের জন্য কি করতে হয়েছে এই নায়িকার।
গল্পের প্রয়োজনে চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে ফেলেছেন। পার্শ্ববর্তী ইন্ডাস্ট্রির কথা বাদ দিলাম বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিতে এমন অনেক উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে। যেসকল অভিনেতা-অভিনেত্রীরা চরিত্রের জন্য নেগেটিভ রোল করেছেন পর্দায়। কিংবদন্তী অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি চরিত্রের প্রয়োজনে নিজের ক্যারিয়ারে অনেক নেগেটিভ রোল প্লে করেছেন। সিনেমার চরিত্র শুধু সিনেমার মধ্যে আবব্ধ।
একটা অনুরোধ রূপালি পর্দায় হোক কিংবা ওটিটি প্লাটফর্মে একজন শিল্পীর যেকোনো চরিত্রে পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করুন। কখনো তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করবেন না। কেননা একটা সিনেমা কখনো একটা সমাজকে ধ্বংস করতে পারেনা। একটা চরিত্রের ভালো দিকটা গ্রহণ করুন আর খারাপ দিকটা জীবনে এপ্লাই না করুন।

সর্বশেষ