৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদঅন্য খবর“অবিলম্বে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে”

“অবিলম্বে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে ১৪ জুন Mental Health and Expressive Psychotherapy to Protect Students from Substance Abuse and Suicide` শীর্ষক এক কর্মশালা চবি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে ও চবি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর সিরাজ উদ দৌল্লাহ।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি মনোবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ড. অরুনাভ বৈরাগী। কর্মশালা পরিচালনা করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান এর অতিথি শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং থেরাপিউটিক ইমপ্রোভাইজার প্রফেসর ড. জিম রবিনসন এবং চবি নাট্যকলা বিভাগের খন্ডকালীন শিক্ষক, এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপিস্ট মোঃ মোস্তফা কামাল যাত্রা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গ্রুপ সাইকোথেরাপি এপ্রোচ এ মনো-সামাজিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে বিগত ১৪ জুন  বুধবার দুপুর ১২টায় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ মিলনায়তনে এক মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি একটি সৃজনশীল ও স্বত:স্ফুর্ত কর্ম-কৌশল। যাতে দলগতভাবে কম সময়ে অধিক সংখ্যক ব্যাক্তির মনো-সামাজিক সমস্যা উত্তোরণে সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে এটি আর্থিক দিক থেকে স্বল্প ব্যায়ে অংশগ্রহণমূলক অভিব্যাক্তি প্রকাশক একটি মনো-স্বাস্থ্য সেবা পদ্ধতি হিসাবে স্বীকৃত ও ব্যাপক হারে অনুশীলিত কর্ম-কৌশল।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য যদি নিয়মিত এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি সেশন পরিচালনা করা যায় তবে তা স্বল্প সময়ে কম অর্থ লগ্নীতে অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীকে মনো-সামাজিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং এই অভিব্যাক্তিধর্মি মনোবিশ্লেষণ পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের নেতিবাচক মানসিকতা দূর করে ইতিবাচক মানসিকতার উন্মেষ ঘটাতে সহায়ক হবে। যা গুনগত মানের শিক্ষা ও শিখন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সমর্থ হবে।

উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, সুস্থ দেহে বাস করে সুন্দর মন। মন ভালো নাথাকলে লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটে। তিনি বলেন, মানসিক রোগ এটি একটি বৈশি^ক সমস্যা। এটির কারণে শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতিবাচক কার্যক্রমের জন্ম নেয়। এরফলে হতাশাগ্রস্থ হয়ে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এর থেকে পরিত্রান পেতে হলে সুস্থ মন দরকার এবং তারজন্য নিয়মিত কাউন্সিলিং প্রয়োজন। মাননীয় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘জীবন অনেক বড়, জীবনে দুঃখ-দুর্দশা অনেক কিছুই থাকবে’।  উপাচার্য দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘যেকোন দুঃখ-বেদনা, হতাশা পরিবার-পরিজন, সহপাঠি এবং সম্মানিত শিক্ষকদের সাথে আলাপ-আলোচনার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক যন্ত্রনা ও হতাশা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, চবি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সবল রাখতে চবি প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিটি অনুষদের অধীনে বিভাগসমূহের শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের  নিয়মিত কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য চবি প্রশাসন আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। অবিলম্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।  উপাচার্য শিক্ষার্থীদের শৃংখলাপূর্ণ জীবন-যাপনে অনুশীলনের পরামর্শ দেন।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন কর্মকৌশল উপস্থাপন করা হয়। এতে মুক্ত আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় চবি শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, হলসমূহের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দপ্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দঅফিস প্রধানবৃন্দচবি অফিসার সমিতিকর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দচবি সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ