
কাতারে ‘বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’ প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধির কাজ করছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, এ ধরনের সংগঠনগুলি যদি ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখে তবে কাতারে আমাদের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে। তিনি সংস্থার নানা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তাদের যে কোন আয়োজনে এবং প্রয়োজনে সাথে থাকার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ভালোর সাথে থাকবো। সততা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে ঝুঁকিও নেবো। প্রায় সাড়ে চার লক্ষ বাঙালির অভিভাবক
এই রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি এবং শঠতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সবাই যদি তাঁকে ফলো করতেন আমাদের দেশ আরো সুন্দর ও সমৃদ্ধ হতো।
গত ২৩ জুন শুক্রবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা কাতার এর আয়োজনে পাগড়ীপ্রাপ্ত ১০ জন কোরআন’এ হাফেজ ও কাতার প্রবাসী ৪ জন আলোকিত ব্যক্তির সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
স্থানীয় কাতার ওয়াসিস বিচ ক্লাবে সম্মাননা প্রদান উপ-পরিষদের আহবায়ক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক ভুইঁয়া ও সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন তালুকদারের সার্বিক তত্বাবধানে এবং সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত মহামান্য রাষ্ট্রপতি মরহুম মোঃ জিল্লুর রহমানের সাবেক পলিটিক্যাল এপিএস, বরেণ্য লেখক ও খ্যাতিমান সাংবাদিক রোটারিয়ান শওকত বাঙালি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ইসমাইল মুনসুর।
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব ভুইঁয়ার শুভেচ্ছা বক্তব্যে এবং নাসরিন সুলতানা ও সহিদ হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন মুর্শিদ শেখ । সম্মাননা প্রাপ্ত আলোকিত ব্যক্তিগণ হলেন গবেষণায় ডক্টর হাবিবুর রহমান, শ্রমজীবী শ্রমিকদের সহায়তায় ডক্টর মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, সমাজ সেবায় শফিকুল ইসলাম তালুকদার বাবু, সাদা মনের মানুষ আব্দুল জলিল। এছাড়া পাগড়ী প্রাপ্ত কোরআন’এ হাফেজগণ হলেন আব্দুল্লাহ মুস্তাফিজ, জাকারিয়া জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ বিন মিজান, সফওয়ান বিন নুর ইব্রাহিম, বিন মুনির হুজাইফা জাফরুল্লাহ, মোহাম্মদ বিন নাজমুল, সৈয়দ তামীম বিন মাহবুব, নাজমুল বিন জুনায়েদ, সৈয়দ খালিদ বিন মাহাবুব।
প্রধান আলোচক শওকত বাঙালি বলেন, একটি ঐতিহাসিক দিনে অনন্য আয়োজনে প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা কাতার প্রমাণ করেছে সামাজিকতার পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় নিবেদিত হতে হবে এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন প্রজন্ম তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি প্রবাসে গুণীজন এবং কোরআন’এ হাফেজদের সম্মানে পুরো আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, যেখানে গুণীর কদর নেই, সেখানে গুণী জন্মাবেনা।
সভাপতির বক্তব্যে আশরাফুল ইসলাম বলেন, গুণীজনদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে আমরাই গর্বিত হয়েছি। তাঁদের অবদানের তুলনায় সামান্য স্বীকৃতি হলেও আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এসব তুলে ধরতে চাই।


