২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদজাতীয়আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস

আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস

ইতিহাসের পথপরিক্রমায় আজ আবারো এসেছে বেদনা-বিধূর ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস ও কালের মহানায়ক, মহান স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী।

দিনটি বিশ্বমানচিত্র থেকে লাখো শহীদের রক্তস্নাত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ও বাঙালির অস্তিত্ব মুছে ফেলার ব্যর্থ চেষ্টার সূচনালগ্ন। পাকিস্তানপ্রেমী স্বাধীনতাবিরোধী কাপুরুষদের পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের কলঙ্কময় দিন। আজ সরকারি ছুটি।

ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে বাঙালি জাতিসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বিনম্র শ্রদ্ধায় দিবসটি পালন করছে। সরকারিভাবেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে জাতীয় দিবসটি।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণী দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। দৈনিক পত্রিকাগুলো আজ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার।

রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

জাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করবেন। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তাঁরা। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বিকেলে বাদ আছর বঙ্গভবনের দরবার হলে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বনানী কবরস্থানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা, তিন ভাই, দুই ভ্রাতৃবধু ও অন্যান্য স্বজনসহ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। এরপর রওনা হবেন টুঙ্গীপাড়ায়। সকাল ১০টায় সেখানে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। এ কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্যোদয়ক্ষণে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। ভোর ৬টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৮ টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল।

বাদ জোহর কেন্দ্রীয়ভাবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এবং দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ সারা দেশে ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া, ১৬ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেদিনের পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞ

সপরিবারে বঙ্গবন্ধু এবং এর মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর চার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচরকে হত্যার পেছনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল; যার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। তবে দৃশ্যত: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। কাপুরুষ ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি; তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর তিন ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল, ক্যাপ্টেন শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

বিশ্ব ইতিহাসের জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ড থেকে সেদিন বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তাঁর ছেলে আরিফ ও সুকান্তবাবু, মেয়ে বেবি, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের দিন বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান তাঁরা।

হত্যা-পরবর্তী দৃশ্যপট

মূলত, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট থেকেই বাংলাদেশ বিপরীত ধারায় যাত্রা শুরু করে। হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে যুক্ত সেনাসদস্যদের পুতুল রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদের হাত ধরে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ধ্বংসের প্রক্রিয়া। পাকিস্তানি ভাবধারায় সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গীতে রাষ্ট্র পরিচালনার নানা ছলাকলা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার অল্পদিনের ব্যবধানে উৎখাত হয় মোশতাক সরকার; যা ছিল ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি এবং বিশ্বাসঘাতক মোশতাকের প্রাপ্য। একইসঙ্গে দৃশ্যপটে চলে আসেন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সরাসরি সুবিধাভোগীরা। এর মধ্য দিয়ে দেশে রচিত হতে থাকে সামরিক শাসনের অনাচারী ইতিহাস।

বিশ্ব প্রতিক্রিয়া

১৫ আগস্টের নির্মমতার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। সেই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প। বিশ্ববিবেক তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাতে থাকে। কাঠগড়ায় তোলা হয় বাঙালি জাতিকে। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে।

দ্য টাইমস অব লন্ডন এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় বলা হয়, ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ, তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোনো অস্তিত্ব নেই’। একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে’।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে। নোবেলজয়ী পশ্চিম জার্মানির নেতা উইলি ব্রানডিট বলেন, মুজিবকে হত্যার পর বাঙালিদের আর বিশ্বাস করা যায় না। যে বাঙালি শেখ মুজিবকে হত্যা করতে পারে, তারা যে কোনো জঘন্য কাজ করতে পারে।

আইন করে বিচার বন্ধ

বিচারের হাত থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রক্ষা করতে স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ বঙ্গবন্ধু হত্যার একমাস ১২ দিন পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন। পরবর্তী সময়ে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে অনুমোদন করেন। এর ফলে রুদ্ধ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের পথ। এরপর বিচারহীনতায় কেটে যায় দীর্ঘ ২১টি বছর।

বঙ্গবন্ধুর তিন খুনী গ্রেপ্তার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২৩ জুন সরকার গঠন করে। ওই বছরের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার স্বঘোষিত খুনী ও পরবর্তী সময়ে প্রধান তিন আসামি বরখাস্ত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইনডেমনিটি আইন বাতিল

১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারি (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজধানী ঢাকার লালবাগ থানায় একটি এফআইআর করেন। এর দেড় মাস পর ১৪ নভেম্বর খুনিদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে জাতীয় সংসদে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করা হয়। ততোদিনে গ্রেপ্তার করা হয় আরো তিন আসামিকে; যাদের মধ্যে একজন থাইল্যান্ডে চুরির দায়ে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা বজলুল হুদাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা

১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই বছরের ১২ মার্চ ৬ আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়।

১৯৯৭ সালের ১৯ জুন পর্যন্ত উচ্চ আদালতের বিচারক বিব্রত হওয়াসহ স্বাধীনতা-বিরোধী চক্রের নানা বাধার কারণে ৮ বার বিচার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এভাবে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর মামলার রায়ে ঢাকার জজ আদালতের বিচারক কাজী গোলাম রসুল ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

অন্যদিকে, হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বিচারিক আদালতের রায়ের ওপর দীর্ঘ ২৪ দিন শুনানি শেষে ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় দেন। বিচারপতি এম রুহুল আমিন অভিযুক্ত ১৫ আসামির মধ্যে ১০ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন। বেঞ্চের অপর বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক অভিযুক্ত ১৫ জনকেই সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পক্ষে রায় দেন। এরপর ২০০১ সালের অক্টোবরের জাতীয়  সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে বিচার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়

দীর্ঘ ৬ বছর পর ২০০৭ সালের ২৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের মুখ্য আইনজীবী বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দেন এবং আপিল বিভাগের ৩ সদস্যের একটি বেঞ্চ ২৭ দিন শুনানি শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর এক আদেশে ৫ আসামির লিভ টু আপিল (নিয়মিত আপিল করার অনুমতির আবেদন) মঞ্জুর করেন।

টানা ২৯ কার্যদিবস শুনানির পর ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত আপিল শুনানি শেষ হয় এবং আদালত ১৯ নভেম্বর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন। ওইদিন (১৯ নভেম্বর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ৫ সদস্যের বেঞ্চ হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির দায়ের করা আপিল আবেদন খারিজ করে দেন।

২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর হয়। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের দায়মুক্ত হয় জাতি। এরপর ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল ভারতে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর আরো এক খুনি আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যার ৪৫ বছর, নৃশংস ওই হত্যা মামলার ২৫ বছর এবং উচ্চ আদালতের রায়ে ৫ আসামির ফাঁসি কার্যকরের প্রায় ১০ বছর পর গ্রেপ্তার হয় খুনি মাজেদ। অন্য আসামিরা বিদেশে পলাতক থাকায় এবং একাধিকজন পলাতক অবস্থায় মারা যাওয়ায় তাদের সাজার রায় কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ