২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদঅন্য খবর২৮ অক্টোবরের সন্ত্রাস ও নাশকতার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

২৮ অক্টোবরের সন্ত্রাস ও নাশকতার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক-সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবির ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের বিএনপি-জামায়াত চক্রের সন্ত্রাস ও তা-বের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির প্রতিনিধি জামায়াত-বিএনপির জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের নামে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের পাশাপাশি দেশে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইছে, যাতে বর্হিশক্তির হস্তক্ষেপ ও আগ্রাসনের পথ সুগম হয়। ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেভাবে অতীতের মতো আগুন সন্ত্রাস করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্যরত সদস্যদের উপর হামলা ও হত্যা করা হযেছে এর নিন্দা জানাবার ভাষা আমাদের জানা নেই। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, যা প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের উপর আক্রমণ। এই সব ভয়ঙ্কর সন্ত্রাস ও তা-বে অংশগ্রহণকারী, প্ররোচনাকারী এবং নেপথ্যের কুশিলবদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানার জন্য অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি।’
শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ তিন দশকেরও অধিককাল ’৭১-এর গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দল জামায়াতে ইসলামীর সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আন্দোলন করছে। ২৮ অক্টোবরের পর জামায়াতের আমীর বিএনপির সঙ্গে থাকার কথা আবারও স্বীকার করে বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে ক্ষমতায় গিয়ে বাংলাদেশে তারা তথাকথিত ইসলামী হুকুমত কায়েম করবেন। আগামী নির্বাচনে আমাদের তরুণ নির্বাচকম-লীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশকে উন্নত দেশের সারিতে নিয়ে যাব, না কি জামায়াতের এজে-া অনুযায়ী পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো ব্যর্থ সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করব।’
আজ ৩১ অক্টোবর ২০২৩, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এতে প্রধান আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জননেতা মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সহ-সভাপতি জননেতা এ.টি.এম পেয়ারুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ মুজিবুল হক। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক, মহামান্য রাষ্ট্রপতি মরহুম মো. জিল্লুর রহমানের সাবেক পলিটিক্যাল এপিএস লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি।
জেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব মো. অলিদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা সহ-সভাপতি দীপংকর চৌধুরী কাজল, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. মোঃ আলাউদ্দিন, সদস্য মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, জাবেদুল আলম সুমন, আবু সাদাত মো. সায়েম, সুমন চৌধুরী, মিথুন মল্লিক, এম.এ মান্নান শিমুল, সাংবাদিক আহমেদ কুতুব, দেবাশীষ আচার্য্য, সাহাবুদ্দিন আঙ্গুর, রুবেল আহম্মদ বাবু, রুবা আহসান, অ্যাডভোকেট মো. সাহাব উদ্দিন, রাজীব চৌধুরী রাজু, সুচিত্রা গুহ টুম্পা, নাজমুল হক ভূঁইয়া রাজীব, জাগরণ কেন্দ্রীয় নেত্রী বৃজেট ডায়েস ও পুষ্টিবিদ হাসিনা আক্তার লিপি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী, মহানগর ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদক মো. খালেকুজ্জামান, ৩৪নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শফিউল্লাহ চৌধুরী, মুন্না আচার্য্য, আকিব জাবেদ, আফজল হোসেন আরজু, মিজানুর রহমান লিটন, লুৎফুর রহমান জুয়েল, ডবলমুরিং থানার আহ্বায়ক জাহেদুল আলম মুরাদ, সাবেক ছাত্রনেতা সৈকত দাশ, শামিম হাসান আরাফাত, তৌহিদুল ইসলাম, কাজী মুহাম্মদ রোকনুজ্জামান, মুহাম্মদ আকতার হোছাইন, কানিজ ফাতেমা, অলি বড়ুয়া, সুবেল দাশ, সুমন দাশ, দিপু বড়ুয়া, বাঁশখালী উপজেলা সভাপতি লায়ন শেখর দত্ত, সাধারণ সম্পাাদক সাদ্দাম হোসেন সায়েম, সদস্য রকিব হাসান ও ইমন শীল, জিয়াউল হক জিবলু, জামশেদুল ইসলাম চৌধুরী, ইসমাইল হোসেন চৌধুরী, আরাফাত হাসান, মিজানুর রহমান, রাজবীর আকাশ, তুর্য চৌধুরী, আফজাল হোসেন সাজু, সুফী শাওন, মো. অভি, মো. তৌহিদুল ইসলাম, আকাশ মল্লিক, মো. হোছাইন, মো. নুরুল মোস্তাফা, শামিম হাসান আরফাত, মো. শফিউল্লাহ, অমিত তালুকদার, মো. মঈন উল আলম, অথৈ মজুমদার, জয়া সিংহ, রোজী আক্তার, আয়শা ছিদ্দীকা, অনিক চক্রবর্তী, রিনা বেগম, শারমিন আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, সুমনা আক্তার ইবা, শামিমা আক্তার, আফছানা মিমি, তাহিয়াতুল মাওয়া, মো. হায়দার আলী, তাহদুন্নবী তারেক, শারাফাত হোসাইন সাকিব, মো. হাবিবুর রহমান, আকাশ দেব, প্রেমাশীষ বিশ্বাস, কাজী আরাফাত হোসেন, কাজল প্রিয় বড়ুয়া, মো. ইসমাইল কাউছার বাদশা, মহানগর শ্রমিক লীগ সহ-সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন, মরিয়ম আক্তার মুক্তা প্রমুখ। এছাড়া চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। সভায় সংগঠনের জেলা ও উপজেলা/থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল প্রধান আলোচকের বক্তব্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশের তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যারা এবার প্রথম অথবা দ্বিতীয়বার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন, আপনাদের দেশপ্রেম এবং সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে জাতির ভবিষ্যৎ। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক উন্নয়নের সূচকেও আমরা যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দৃষ্টান্ত হতে পারি, সে ক্ষেত্রে তরুণদের সকল কার্যক্রমের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে যারা অশান্তি ও সন্ত্রাসের দ্বারা বানচাল করতে চায় তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের সাফল্য ও উন্নয়নের এই ধারা স্তব্ধ করে, যুদ্ধাপরাধীদের চলমান বিচার বন্ধ করে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ, সন্ত্রাসী, জঙ্গি রাষ্ট্র বানাবার জন্য জামায়াত-বিএনপির মতো ’৭১ ও ’৭৫-এর খুনিরা আবার মাঠে নেমেছে। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আন্দোলনের নামে তা-ব করছে এবং গৃহযুদ্ধের হুমকি দিয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপ ও আগ্রাসনের ক্ষেত্র তৈরি করছে।’
সভার বিভিন্ন আলোচক স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির নির্বাচন বানচালের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান।

 

সর্বশেষ