গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারী) সংগীত মনিষী আমীর খসরুর স্মরণে সদারঙ্গ উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিষদ বাংলাদেশ এর বাৎসরিক আয়োজন ২৮তম জাতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত সম্মেলন-২০২৫ শুরু হয় থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে। প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন একুশে পদক প্রাপ্ত উপমহাদেশ খ্যাত বাঁশি বাদক উস্তাদ আজিজুল ইসলাম। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদারঙ্গ এর সম্পাদক সমীর চক্রবর্ত্তী।
সভায় উদ্বোধক উস্তাদ আজিজুল ইসলাম বলেন ঐতিহ্যবাহী সদারঙ্গ ২৮ বছর ধরে দেশের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রসারে বড় ভূমিকা রেখেছে এর মূলে পণ্ডিত ড. স্বর্নময় চক্রবর্তী যিনি সম্প্রতি পি.এইচ.ডি করেছেন। পাশা পাশি বন্ধুবর উস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়াকে দেরিতে হলেও একুশে পদকে ভূষিত করায় প্রাণঢালা অভিনন্দন। তিনি আরো বলেন, মোবাইল আগ্রাসনের এই যুগে ছেলে মেয়েদেরকে কালচারাল ফিল্ডে রাখবেন, যা তাদের মনুষ্যত্ব ও জ্ঞানকে অনেক প্রসারিত করবে। সমাজ ও দেশ অনেক উপকৃত হবে।
উদ্বোধনী পর্বের পর প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় সদারঙ্গের শিক্ষার্থী সদস্যবৃন্দের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।
পণ্ডিত ডঃ স্বর্ণময় চক্রবর্ত্তীর রচনা এবং সুরে, ইমন রাগে প্রথমে ঝাঁপতালে তারানা এবং পরে ত্রিতালে “সুরদাতা নাহি আয়ে” বন্দিশটি পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর যোগ রাগে খেয়াল পরিবেশন করেন রাজবাড়ীর শিল্পী ড.সুশান্ত কুমার সরকার। এতে তিনি বিস্তার অংশে অপূর্ব সুরে শ্রোতা-দর্শকদের আবিষ্ট করেন।সাথে কাফী রাগে ঠুমরী সুর উপরি পাওনা হয়ে রইলো।
তাঁকে তবলায় সুসহযোগীতা করেন ময়মনসিংহের শিল্পী মনি শংকর আইচ, হারমোনিয়ামে যথাযথ সহযোগিতা করেন নাটোরের শিল্পী আলমগীর পারভেজ সুমন, তানপুরায় মীর মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ সানী।
রাজশাহীর শিল্পী শায়লা তাসমিন পরিবেশন করেন সরস্বতী রাগে খেয়াল।তিনি খেয়াল শেষে একটি অপূর্ব হোরি পরিবেশন করেন। তাঁকে তবলায় সহযোগিতা করেন রাজশাহীর শিল্পী সঞ্জয় বিশ্বাস।সঞ্জয় বিশ্বাসের পরিমিতিবোধ তাঁর বাজনাকে উজ্জ্বল করেছে।নাটোরের শিল্পী আলমগীর পারভেজ সুমন নিজে উত্তম কণ্ঠশিল্পী হারমোনিয়াম সহযোগিতায় তার সুপ্রয়োগ লক্ষনীয়। তানপুরায় ছিলেন মিসেস রুচিরা বড়ুয়া।
এদিনের শেষ শিল্পী ফেনীর শিল্পী শ্যামল চন্দ্র দাশ বেহালায় চারুকেশি রাগ পরিবেশন করে শ্রেতাদের মন জয় করেন।
সহযোগী শিল্পী ছিলেন তবলায় চট্টগ্রামের প্রীতম আচার্য।
শুক্রবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রভাতি অধিবেশন শুরু হবে সকাল নয়টায়।এতে থাকবে কিশোর -কিশোরী শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা। আনন্দী সেন (কন্ঠ), মো. হোসাইন চিশতী(তবলা),দেবব্রত সেন স্বপ্নীল (তবলা),হৃষিতা মল্লিক (কন্ঠ)।এরপরই থাকবে সেমিনার যেটির আলোচ্য বিষয়ঃ তবলার বোল-বাণী শিক্ষার সাথে লয় সাধনার গুরুত্ব।
এরপর সন্ধ্যা ৬ টায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের সম্মেলনের অন্তিম অধিবেশন – উচ্চাংগ সংগীতানুষ্ঠান।
এই অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সংগীত শিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ।পরিবেশনায় থাকবে: আনন্দী সংগীত একাডেমির সমবেত তবলা লহড়া, দোলন কানুনগো (মোহনবীনা),প্রমিত বড়ুয়া(কণ্ঠ), জয়দীপ ভঞ্জ চৌধুরী (সেতার)।


