২২শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদঅন্য খবরজন্মাষ্টমী পরিষদে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি

আজীবন ও দাতা সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

জন্মাষ্টমী পরিষদে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি

বার্তা প্রেরিত

শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ-বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের আজীবন ও দাতা সদস্যরা। নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে গঠনতন্ত্র মেনে প্রকৃত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। সংগঠনে ফিরিয়ে আনা হোক গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা। আজ বুধবার (১৮ জুন) বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আজীবন সদস্য সৌরভ প্রিয় পাল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জন্মাষ্টমী পরিষদ ১৯৮২ সাল থেকে গত ৪২ বছর ধরে গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহল জোরপূর্বক কমিটি গঠন করে সংগঠনের ঐতিহ্য ও নিয়মনীতি ভঙ্গ করেছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও ধর্মীয় সংগঠনের মর্যাদার পরিপন্থী। বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১১ জুন সামাজিক মাধ্যমে যেভাবে একটি তথাকথিত কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়, তা পরিষদের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উক্ত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নাম এসেছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার চন্দন তালুকদারের। তাঁর বিরুদ্ধে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলা, জুলাই অভ্যুত্থান ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে আর.কে দাশ রুপু–কে, যিনি আওয়ামী রাজনীতির ঘনিষ্ঠ এবং স্বৈরাচারী সরকারের অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত। বক্তারা বলেন, ঘোষিত কমিটিতে পরিষদের ১,১২৫ জন তালিকাভুক্ত সদস্যের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বরং বাইরের অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়েছে। যেমন আজীবন বা দাতা সদস্য না হয়েও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অসীক দত্তকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এটি পরিষদের ধর্মীয় ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার চরম অবমাননা।
বক্তারা আরো বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে.এম সেন হলে অনুষ্ঠিত হয় পরিষদের কেন্দ্রীয় সম্মেলন। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্কাইপির মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি সনাতনী সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। তবে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে একটি পক্ষ কমিটি গঠনের ষড়যন্ত্র করে। উপস্থিত সদস্যদের প্রবল বিরোধিতায় নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পদত্যাগ করেন ও কার্যক্রম বাতিল করা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমানে নেতৃত্ব শূন্যতার সুযোগে একটি পতিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী স্বৈরাচারী কায়দায় পরিষদ দখলের অপতৎপরতায় লিপ্ত। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অস্ত্র প্রদর্শন ও হুমকি-ধামকি সাধারণ সনাতনী সদস্যদের নিরাপত্তা প্রশ্নে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা সুজিত কুমার বিশ্বাস মন্টুকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ কমিটি বাতিল করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা জানান, এই অবৈধ কমিটির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে দেশব্যাপী সনাতনী সমাজ মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনও এই গণতান্ত্রিক দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়েছেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ’ একটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। একে কোনভাবেই আর রাজনৈতিক পুনর্বাসনের প্ল্যাটফর্ম বানাতে দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আজীবন সদস্য দোলন দেব, দীপক চৌধুরী কালু, প্রকৌশলী সঞ্জয় চক্রবর্তী মানিক, প্রশান্ত কুমার পান্ডে, অর্জুন কুমার নাথ, রাধেশ্যাম আচার্য্য, নারায়ন দাশ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুকান্ত তালুকদার জুয়েল, অপু চৌধুরী আকাশ, কেন্দ্রীয় সদস্য বিপ্লব চৌধুরী বিল্লু, মহানগর সদস্য সচিব বাপ্পী দে, দপ্তর সম্পাদক জীবন মিত্র রাজ, মিঠন রবি দাশ, সৈকত বোস, প্রভাস দাশ, রতন কান্তি নাথ, মিঠুন বৈষ্ণব, রয়েল কুমার পাল, সুব্রত আইচ, অরুপ দাশ, মিথুন কান্তি দাশ, রনি দাশ, পন্ডিত মিথুন আচার্য্য, রনি দাশ, উজ্জল পাল চৌধুরী প্রমুখ।

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort