পাহাড় মানে শুধু সৌন্দর্যই নয়। সংস্কৃতি বৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার এক অপরূপ আধার। পাহাড়ের এই অপরূপ সৌন্দর্য ঝিরি ঝরনা সবুজ প্রকৃতি জুম চাষ আর পাহাড়িদের যাপিত জীবনধারা শিল্পীর তুলিতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। পাহাড়ের জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী খিংসাই মারমার একক চিত্র প্রদর্শনীর ২৭টি চিত্রকর্মে পাহাড়ের জীবনধারাকে অপরূপভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
গত শুক্রবার বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেনাবাহিনীর বান্দরবানের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিব ইবনে রেজওয়ান প্রধান অতিথি হিসেবে চার দিনব্যাপী এই চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়।
এ সময় তার সাথে সেনাবাহিনীর সদর জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল হুমায়ুন রশিদ, পুলিশ সুপার আবদুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- শিল্পীর বাবা মংখ্য অং মারমা, মা পেনুচিং মারমা ও পাহাড়ের জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী জয়দেব রোয়াজা। এই চিত্র প্রদর্শনীর নাম দেয়া হয় রোয়া-দ্ব। মারমা সম্প্রদায় বান্দরবানকে রোয়া-দ্ব নামে ডাকে। রোয়া শব্দের অর্থ গ্রাম দ্ব অর্থ সেই গ্রামের সম্মান। অর্থাৎ বান্দরবানকে উচ্চ মর্যাদার সাথে তুলনা করা হয়।
শিল্পী খিংসাই জানান, ছোট কাল থেকেই ছবি আঁকার নেশা থেকেই পরে ইউডা চারুকলার শিক্ষার্থী হিসেবে বহু গুণীজন শিল্পীর সান্নিধ্যে আসেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় যৌথভাবে তার চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হলেও বান্দরবানে এটিই প্রথম তার একক চিত্র প্রদর্শনী।
পাহাড়ের জীবন, জুমচাষের প্রাত্যহিক সংগ্রাম, বিলুপ্তপ্রায় বন্য প্রাণী আর টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্পগুলোই রংতুলির আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে ক্যানভাসে। বান্দরবানে এই প্রথম কোনো আদিবাসী চিত্রশিল্পীর একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। মারমা শিল্পী খিং সাই মং মারমার এই প্রদর্শনীর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘রোয়া-দ্ব’। শিল্পী জানান, মারমা ভাষায় ‘বান্দরবান’কে ‘রোয়া-দ্ব’ নামে ডাকা হয়। এখানে ‘রোয়া’ অর্থ গ্রাম আর ‘দ্ব’ শব্দটি সম্মানার্থে ব্যবহৃত হয়। শহরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের গ্যালারিতে চার দিনের এই প্রদর্শনীতে শিল্পীর আঁকা মোট ২৭টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে। এগুলোতে তক্ষক, কুকুর, শিশু ও প্রবীণ নারীর ছবির প্রতীকী ব্যবহারের মাধ্যমে পাহাড়ের গভীরের অনুভূতিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উদ্বোধনের দিন থেকেই গ্যালারিতে ভিড় করছেন নানা বয়সী শিল্পানুরাগী। তাঁরা আগ্রহ নিয়ে শিল্পীর চিত্রকর্ম ঘুরে দেখছেন। অনেকে আবার সেলফিতে নিজের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দী করছেন পছন্দের ছবিটি।


