১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদবিশেষ ফিচারনেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকীর সাথে কেন নাসির উদ্দিন খানকে তুলনা করা হয়

নেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকীর সাথে কেন নাসির উদ্দিন খানকে তুলনা করা হয়

নেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী বলিউডের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে নিজ চাতুর্যে ভারতীয় দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন। জিতেছেন একাধিক এওয়ার্ড। যেকোনো চরিত্রে নিজের মেথড অ্যাক্টিং স্কিল দিয়ে দর্শকদের বসিয়ে রাখতে দারুণ চৌকস। সেটা বার বার ঘটিয়েছেন দেখিয়েছেন।
নেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকীর বিকল্প অভিনেতা কেউ নেই। আসলে নেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী একটাই হয়। তারপরও বাংলাদেশি অভিনেতা নাসির উদ্দিন খানকে বাংলাদেশি নেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী বলে দর্শকরা। আমার কলকাতার ফ্রেন্ডরা যারা বাংলাদেশি কাজ দেখি, আর বাংলাদেশেও যাদের সাথে আমার এড রয়েছে তারাও। কিন্তু আসলেই কি দুজনের কোন মিল আছে?
আমি বলবো কোন মিল নেই। কিন্তু তারপরও কিছু কাকতালীয় ব্যাপার ঘটে গেছে দুজনের মাঝে যেগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
নেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী এর সাথে কেন নাসির উদ্দিন খান কে তুলনা করা হয়??
ব্ল্যাক ফ্রাইডে’, ‘নিউ ইয়র্ক’, ‘দেব ডি’, ‘কাহানী’, ‘গ্যাংগস অফ ওয়াসিপুর’, ‘পান সিং তোমার’, ‘তালাশ’, ‘বোম্বে টকিজ’, ‘দ্য লাঞ্চবক্স’, ‘বাবুমশাই বন্দুকধারী সিনেমা দ্বারা যাঁকে করেছে দর্শক নন্দিত তিনি নেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী।
অন্য দিকে হাওয়া, পরান,প্রহেলিকার মত প দর্শকনন্দিত সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসিত হন যিনি তিনি হলেন নাসির উদ্দিন খান।
সম্প্রতি বলিউড এই তারকার সাথে বাংলাদেশের জাঁদরেল অভিনেতা নাসির উদ্দিন এর সাথে তুলনা করা হয়।যদিও কারো সাথে কারো তুলনা হয় না।তবু্ও অস্বীকার করার ও উপায় নেই।দু’জনে দু মেরুর মধ্যগগনে ধুমকেতুর ন্যায় আবির্ভাব।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নেওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর নামটি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে নেওয়া হয়।এই অভিনেতা তাঁর ক্যারিয়ারে এমন কিছু শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করেছেন যে তিনি দর্শকদের অত্যন্ত প্রিয় হয়ে উঠেছেন। প্রায় প্রতিটা ছবিতেই তাঁর অভিনয় দেখলেই বোঝা যায় যে তিনি কতটা উৎসাহের সঙ্গে এবং
নিজেকে উৎসর্গ করে কাজটি করেন।
এখন যদি আমরা নাসির উদ্দিন খান এর দিক তাকাই তাহলে দেখতে পাই অভিনয়ের কারিশমা দেখিয়ে যেকোনো চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে পারেন। পৃথিবীর যেকোনো স্থানে তাকে নিয়ে গেলে তিনি অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করে ফেলতে পারবেন। নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে তিনি যেকোনো চরিত্রকে জীবন্ত করে ফেলার অনন্য প্রতিভা নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পা ফেলেছেন।
নেওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকীর ক্যারিয়ারে এই সাফল্য হলেও তাঁর জীবনে রয়েছে একটা কঠিন গল্প। বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নাম অর্জনের জন্য নেওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীকে অনেকটা লড়াই করতে হয়েছিল। এমনকি তিনি প্রহরীর চাকরিও করতেন।দুর্দান্ত অভিনয় দক্ষতা ও প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও চেহারার কারণে প্রাথমিকভাবে তিনি অনেক কাজ পাননি।
এখন নাসির উদ্দিন খান এর দিকে তাকাই। চট্টগ্রামে পরিবারের সঙ্গে থাকা মানুষটা অভিনয় আর দুটো ভাত খাবে বলে ঢাকায় চলে এসেছে সবকিছু ছেড়ে। জীবনে বহুবার রদবদল হয়েছে চাকরি করার স্থান। চাকরিও করেছেন ৫-৬ টা প্রতিষ্ঠানে। শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝে গিয়েছিলেন চাকরি-টাকরি তার দ্বারা হবে না। একটি সময়ে এসে ঢাকায় রাইডার সার্ভিস “পাঠাও “এর বাইক চালানোর কথাও চিন্তা করেন দু মুঠো ভাতের আশায়।
ক্যারিয়ার শুরুটা নেওয়াজের মঞ্চ থেকেই শুরু হয়। তেমনি নাসির উদ্দিন খানের ক্যারিয়ার মঞ্চ থেকে শুরু হয়।
তাঁদের অভিনয় দর্শক এত বাস্তব হিসেবে নিয়েছে যে হালকা বোল্ড সিনে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইয়ে দিয়েছে সামাজিক মাধ্যম গুলো তে।
(২০২৩ এ ছোটপর্দা বা বড় পর্দা কিংবা ওটিটি প্লাটফর্মে একজন অভিনয় শিল্পী ধুমকেতু হয়ে এসেছেন। এই শোবিজে নতুন করে জায়গা করে নিলেন—তার নাম নাসির উদ্দিন খান। আশফাক নিপুনের সিরিজ মহানগরে ছোট্ট একটি চরিত্রে কাজ করেই যেন নিজেকে জানান দিচ্ছিলেন তিনি। এরপর তাকে পুরোপুরি কাজে লাগালেন নির্মাতা শিহাব শাহীন। ‘মাইসেল্ফ অ্যালেন স্বপন’ সিরিজটি অনেকদিন মনে রাখার মতো একটি কাজ। যেখানে দুর্দান্তভাবে নজর কেড়েছেন এই অভিনেতা। ঠিক তার পরপরই প্রহেলিকা ছবিতে নাসিরের চরিত্রটি নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়েছে। এই ছবিতেও তিনি ছক্কা পিটিয়েছেন। সারাবছরই তিনি বাংলাদেশের ইরফান খান বা বাংলাদেশের নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী হিসেবে তুলনায় ছিলেন। নিজ অভিনয় প্রতিভাতেই যেন উজ্জ্বল এই শিল্পী।
ব্রাকেট এর অংশ দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার একটা রিপোর্ট থেকে নেয়াযেখানে ২০২৩ সালের শোবিজে নানান চর্চা বা অচর্চার ভেতরে যারা সত্যিকার অর্থেই নিজের কাজ দিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন—তাদেরই ১০ জনের ভিতর রয়েছে নাসির উদ্দিন খান এর নাম।

সর্বশেষ