
মোবাইল সিম কিনতে আঙুলের ছাপ নিয়ে কারসাজি করে চলছে এক অপকর্ম। নিজের অজান্তেই নিজের নামে হয়ে যাচ্ছে একাধিক সিম কার্ড। এ অপকর্ম ঠেকাতে এবার সিম নিবন্ধনে ফেস রিকগনিশন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, সিম কিনতে গেলে বলা হয় আপনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়েছেন এটা হয়নি, আবার দেন, আবার দেন; কিন্তু ওই অপারেটর যে প্রত্যেকটার বিপরীতে একটি করে সিম রেজিস্ট্রি করছে; তা গ্রাহক জানছেন না।
এ পরিস্থিতিতে সিম নিবন্ধনে বিকল্প পদ্ধতির উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। আঙুলের ছাপ নির্ভর বায়োমেট্রিকের পাশাপাশি নতুন করে ফেস রিকগনিশন ব্যবস্থা চালু করতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বর্তমানে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্ম তারিখ, আঙুলের ছাপের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইংয়ে থাকা তথ্য মেলানো হয়।
আর ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যক্তির মুখমণ্ডল বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল টেমপ্লেট তৈরি করে এনআইডিতে সংরক্ষিত ডেটার সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করে। তথ্য মিললে সিম পাবেন গ্রাহক। প্রায় এক বছর ধরে চলছে এই প্রযুক্তির পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান বলেন, এনআইডি প্রজেক্টের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রযুক্তিগতভাবে নির্ভরযোগ্য হলে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হতে পারে।
অপারেটররা বলছে, ফেস রিকগনিশন চালু করতে প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত আছেন তারা। বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, একটি ফোনের মাধ্যমে গ্রাহকের ফেশিয়াল রিকগনিশন করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে তথ্য নিশ্চিত করা হলে সিম দেয়া যাবে।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, এটি কার্যকর করা গেলে সিম সংক্রান্ত অপরাধগুলো আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
বর্তমানে চার মোবাইল অপারেটরের সাড়ে ১৮ কোটির বেশি সক্রিয় সিম কার্ড রয়েছে।


