১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদজানা-অজানাপৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহের সম্ভাব্য সন্ধান

পৃথিবীর মতো আরেকটি গ্রহের সম্ভাব্য সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক

নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ অবসর নেওয়ার পরও জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন চমক দিয়ে চলেছে। এই টেলিস্কোপের পুরোনো তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর আকারের একটি গ্রহের সম্ভাব্য সন্ধান পেয়েছেন। গ্রহটির নাম এইচডি ১৩৭০১০ বি (HD 137010 b)

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের (ইউনিএসকিউ) নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিজ্ঞান সাময়িকী অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটি সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। আকারে এটি পৃথিবীর চেয়ে প্রায় ছয় শতাংশ বড়। অবস্থান ও আকারের কারণে গবেষকেরা একে এমন একটি গ্রহ হিসেবে দেখছেন, যা পৃথিবী ও মঙ্গল গ্রহের মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্য বহন করতে পারে।

তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রহটি পৃথিবীর তুলনায় অনেক ঠান্ডা হতে পারে। এমনকি এটি চিরবরফে ঢাকা মঙ্গল গ্রহের চেয়েও বেশি শীতল হতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

গবেষণা প্রতিবেদনে গ্রহটিকে এখনো ‘গ্রহপ্রার্থী’ বলা হয়েছে। কারণ, একে নিশ্চিত গ্রহ হিসেবে ঘোষণা করতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

গবেষণার সহলেখক ও ইউনিএসকিউ গবেষক চেলসি হুয়াং বলেন, এই আবিষ্কার অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। তাঁর ভাষায়, ‘প্রথম বহির্গ্রহ আবিষ্কারের পর থেকে গত ৩০ বছর ধরে বিজ্ঞানীরা মূলত পৃথিবীর মতো একটি গ্রহ খুঁজে চলেছেন।’

গবেষণার প্রধান লেখক অ্যালেক্স ভেনার জানান, যদি গ্রহটি নিশ্চিত করা যায়, তবে সূর্যসদৃশ কোনো নক্ষত্রের বাসযোগ্য অঞ্চলে এটি হবে একমাত্র পরিচিত পাথুরে গ্রহ। তাঁর মতে, গ্রহটি বাসযোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ।

বিজ্ঞানীরা বলেন, বাসযোগ্য অঞ্চল বলতে নক্ষত্রের সেই এলাকাকে বোঝানো হয়, যেখানে তরল পানি থাকার সম্ভাবনা থাকে। এই গ্রহটি সেই অঞ্চলের একেবারে সীমারেখায় অবস্থান করছে।

গ্রহটির ভর ও বায়ুমণ্ডলের প্রকৃতি জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এই আবিষ্কার মহাবিশ্বে প্রাণের সম্ভাব্য অস্তিত্ব অনুসন্ধানে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

সর্বশেষ