১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদঅন্য খবরঈদ ঘিরে জমজমাট চট্টগ্রামের টেরিবাজার

ঈদ ঘিরে জমজমাট চট্টগ্রামের টেরিবাজার

ঈদের বেচাকেনায় ব্যস্ত চট্টগ্রামের পোশাকের জন্য বিখ্যাত টেরিবাজার। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে ঈদকে ঘিরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার লেনদেন হবে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
যেখানে প্রায় ৩ হাজারটি ছোট-বড় দোকানের দেখা মিলবে দেশীয় ও আমদানি করা অত্যাধুনিক ফ্যাশনের কাপড়ের। তাই বন্দরনগরীর নারীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে টেরিবাজার। সারাদেশ থেকে পাইকারি বাজারে ছুটছেন ক্রেতারা।

রোজা শুরু হয়, ঈদের কেনাকাটাও শুরু হয়। আর সেই আমেজ অনুভব করা যায় চট্টগ্রামের শত বছরের পুরনো টেরিবাজারে। ঈদের আগে টেরিবাজারে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। বাজারের সরু গলিতে পা রাখার জায়গা নেই।

যেহেতু এটি আমদানি করা কাপড়ের পাইকারি বাজার, তাই এখানে বিক্রি শুরু হয় রমজানের ১৫ দিন আগে। দেশ-বিদেশ থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় করেন।

পোশাকের জন্য বিখ্যাত এই মার্কেটে দেশি ও আমদানি করা সব ধরনের পোশাক রয়েছে। নিত্যনতুন ফ্যাশন এবং প্রচুর ডিজাইনের পোশাকের কারণে বন্দর শহরের মহিলারা এখানে প্রথমে ভিড় করেন।

তাদের দাবি, ঈদের সময় মার্কেটে ভিড় বেশি থাকে, তাই ঝামেলা এড়াতে তারা আগে থেকেই কেনাকাটা করে ফেলেন।

টেরিবাজারে ছোট-বড় মিলে পোশাকের মার্কেট আছে ১১০টি। যেখানে দোকানের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। এবার ঈদুল ফিতরে বেচাবিক্রির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা।

গত এক দশকে টেরিবাজারে ব্যবসার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। ৩০টিরও বেশি ওয়ান স্টপ শপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে একই ছাদের নিচে সব ধরনের পোশাক, অলংকার, প্রসাধনী, জুতাসহ অন্যান্য পণ্য পাওয়া যায়। এসব দোকানে প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ লাখ টাকার বেচাকেনা হচ্ছে।

ঈদ, পূজো বা যে কোন উৎসবে কোন পোশাকটি হাল আমলের ফ্যাশন কিংবা জনপ্রিয় হবে তা ঠিক করেন এই টেরিবাজারের ব্যবসায়ীরা। এবারও তার ব্যাতিক্রম নয়। বিদেশি থ্রি পিস গুল আহমেদ, সাদা বাহার, বিন সাইদ ব্র্যান্ডের পোশাক আছে ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে। যা মিলছে ২ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকায়। তবে দেশি ব্র্যান্ডের পোশাক মিলছে কিছুটা কম দামে।

চট্টগ্রাম টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বলেন, টেরিবাজারে এক ছাদের নিচে সবকিছু পাওয়া যায়। অন্যকোনো শোরুম বা মার্কেটে কোথাও পাবেন না।

এখান থেকে পছন্দের কাপড় কিনে এই মার্কেটে সেলাই করাও সম্ভব। এখানে গড়ে উঠেছে শতাধিক দর্জির দোকান। সেখানে এখন ব্যস্ত। ডেলিভারি সময় দিতে হবে, তাই শ্রমিকদের দম ধরার সময় নেই।

দর্জি ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের এই টেলিবাজারে সেলাইয়ের কাজের জন্য ১০ রোজা পর্যন্ত অর্ডার নিয়ে থাকি। এর পর আমাদের অর্ডার নেয়া সম্ভব হয়না।

টেরিবাজারে কাপড় আমদানি হয় মূলত ভারত, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে। উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে সারা বছর এখানে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার কাপড় বিক্রি হয়।

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort