ডিজিটাল মিডিয়ায় মানুষকে বিনামূল্যে খেলা দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করছে। ধারণা করা হয় জিও সিনেমা আইপিএল-এর ওটিটি সম্প্রচার মাধ্যমে, চলতি বছর ২ হাজার ৮০০ কোটি রুপি আয় করবে, যা টেলিভিশনের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত এক হাজার কোটি টাকার বেশি।
খেলাধুলা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিনোদন। ফুটবলে পিছিয়ে থাকা দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেট সেই জায়গা করে নিয়েছে।
মাঠের উত্তেজনাই তার বড় প্রমাণ। কিন্তু সীমিত আসনের গ্যালারির চেয়ে বেশি মানুষের চোখ টেলিভিশন বা মোবাইলের স্ক্রিনে। সেখানেই মাতেন চার ছক্কার বিনোদনে।
আর এই বিনোদনে মাতিয়ে, অনেক প্রতিষ্ঠান আয় করে নিচ্ছে কোটি কোটি ডলার। যার অন্যতম উদাহরণ আইপিএল।
ডিজিটাল মাধ্যমে খেলা দেখিয়ে আয় হচ্ছে টেলিভিশন চ্যানেলের চেয়েও বেশি। গত আসরে ডিজিটাল রাইট কেনা হটস্টারকে পেছনে ফেলে এবার ওটিটিতে আয়ের নতুন নজির গড়ছে জিও সিনেমা।
জিও ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ডিজিটাল স্বত্ব কিনেছে এবং সম্পূর্ণ আইপিএল সিজন বিনামূল্যে দেখাবে। প্রযুক্তির এমন অনেক ব্যবহার থাকবে যা আগে কেউ দেখেনি।
ফিফা বিশ্বকাপ আসরের ডিজিটাল রাইট কিনে সেটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্প্রচার করেছে জিও সিনেমা। এতে ফাইনালে এই মাধ্যমে খেলা দেখেছে ৩ কোটিরও বেশি মানুষ। আর গড়ে জিওর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এন্ট্রি নিয়েছে ১১ কোটি মানুষ।
এতো মানুষের সমাগম হয়েছে শুধুমাত্র ফ্রিতে খেলা দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। আর এ কারণেই বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলো চোখ এখন তাদের দিকে।
আইপিএলের মিডিয়া পার্টনার এশিয়ার এক রিপোর্ট বলছে, এবারের আসরে ৬০ শতাংশ বিজ্ঞাপন চলে যাবে ওটিটি প্লাটফর্মে।
ইতিমধ্যেই, ৫০০ বিজ্ঞাপন সংস্থা চুক্তি সেরেছে জিওসিনেমার সঙ্গে। ধারণা করা হচ্ছে, এখান থেকে জিও আয় করবে ২ হাজার ৮০০ কোটি রুপি। অন্যদিকে টিভি সত্ব কেনা স্টার স্পোর্টসের আয়ের লক্ষ্য ১ হাজার ৮০০ কোটি রুপি।
এতো গত বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের একটা হিসাব। কিন্তু অন্যভাবে মোবাইলের বড় একটা বাজারও দখল করে নিচ্ছে তারা। যেহেতু ফ্রি খেলা দেখা যায় জিও সিমের ফাইভ-জিতে, তাই দ্রুত হারে বাড়ছে তাদের গ্রাহক সংখ্যাও। আইপিএল উন্মাদনায় ভারতের ৪০৬টি শহরের মানুষ যোগ দিচ্ছেন এই মোবাইল নেটওয়ার্কে।
জিওসিনেমাই একমাত্র নয় যে খেলা বিনামূল্যে দেখাবে। প্রথমবারের মতো দর্শকরা ফোরকে ক্যামেরায় ডিজিটাল মাধ্যমে খেলা দেখবেন। এমনকি নতুন ক্যামেরা ফিচারও প্রকাশ করা হয়েছে।
দর্শকরা মাঠের ক্যামেরার ফ্রেম পরিবর্তন করতে চাইলে যেকোনো অ্যাঙ্গেল থেকে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ আইপিএলে দর্শকরা তাদের ইচ্ছে মতো খেলা দেখবেন। যা এর আগে কোনো সম্প্রচারে দেখা যায়নি।
পুরো বিশ্বের ক্রিকেট সংস্কৃতি এখন প্রতিনিয়ত নতুন রূপ পাচ্ছে ভারতের ফ্রেঞ্চাইজি লিগের হাত ধরে। ক্রিকেট নিয়ে বাণিজ্যের সব হিসাব-নিকেশও বদলে যাচ্ছে। আইপিএলের আদলেই সাজবে আগামীর ক্রিকেট বিজনেস।


