১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদআশপাশঅবসরের পর যেসব সুবিধা পাবেন আবদুল হামিদ

অবসরের পর যেসব সুবিধা পাবেন আবদুল হামিদ

টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন শেষে আগামীকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময়ের প্রেসিডেন্ট তিনি। এরপরই বাংলাদেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে আগামীকাল সোমবার শপথ নেবেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন। মো. সাহাবুদ্দিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তাকে চেয়ারে বসিয়ে বঙ্গভবন থেকে বিদায় নেবেন আবদুল হামিদ।
একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট কী কী সুবিধা পান, তা বলা হয়েছে প্রেসিডেন্টর অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইনে। এই আইনের তথ্য বলছে, কোনো ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট পদে কমপক্ষে ছয় মাস দায়িত্ব পালন শেষে পদত্যাগ করলে অথবা মেয়াদ শেষ হলে মৃত্যুর আগপর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সর্বশেষ যে মাসিক বেতন পেতেন, তার ৭৫ শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাবেন। ‘দি প্রেসিডেন্টস (রেমিউনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজেস) অ্যাক্ট, ১৯৭৫ (মে ২০১৬ পর্যন্ত সংশোধিত) অনুযায়ী বর্তমানে প্রেসিডেন্টের মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই হিসাবে অবসরের পর মো. আবদুল হামিদ মাসে ৯০ হাজার টাকা অবসরভাতা পাবেন।
আইনানুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি বা পদ হতে অবসরে গিয়ে অবসরভাতা গ্রহণ করলে তিনি ওই অবসরভাতা এবং প্রেসিডেন্টর অবসরভাতার মধ্যে তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোনো একটি পাওয়ার যোগ্য হবেন। প্রেসিডেন্ট অবসরভাতা গ্রহণ করে মারা গেলে তাঁর বিধবা স্ত্রী অথবা ক্ষেত্রমতে বিপত্নীক স্বামী তাঁর প্রাপ্য অবসরভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক ভাতা পাবেন।
অবসরে যাওয়ার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন ব্যক্তিগত সহকারী এবং একজন অ্যাটেনডেন্ট (সাহায্যকারী) পাবেন আবদুল হামিদ। একজন মন্ত্রীর প্রাপ্য চিকিৎসাসুবিধার সমপরিমাণ চিকিৎসাসুবিধা পাবেন।
আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট, দেশের ভেতর ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্টহাউসে বিনা ভাড়ায় থাকার সুবিধা পাবেন আবদুল হামিদ। তিনি দাপ্তরিক ব্যয়ও পাবেন, এর পরিমাণ সরকার নির্ধারণ করে দেবে।
কী কী কারণে একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন না, তা–ও উল্লেখ আছে আইনে। এগুলো হলো প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব শেষে এমন কোনো দপ্তরে, আসনে, পদে বা মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করে নির্ধারিত তহবিল (সংযুক্ত তহবিল) থেকে বেতন বা অন্য কোনো সুবিধা পেলে প্রেসিডেন্টের অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া যাবে না। অবসরভাতার প্রাধিকার পাওয়ার পর আদালতের মাধ্যমে নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হলেও ওই সব সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে উচ্চ আদালত ঘোষণা করলেও সাবেক কোনো প্রেসিডেন্ট ওই সুবিধা পাবেন না।
আবদুল হামিদ প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল। এরপর ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি দ্বিতীয়বারের মত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। বাংলাদেশের আইনে দুই মেয়াদের বেশি কারও প্রেসিডেন্ট থাকার সুযোগও নেই।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আবদুল হামিদ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন। সব মিলিয়ে সাতবার জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। পালন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্বও।

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort