১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদজাতীয়চট্টগ্রামে বৈশাখী মেলার শেষদিন আজ

চট্টগ্রামে বৈশাখী মেলার শেষদিন আজ

চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বারের বলী খেলা উপলক্ষে তিনদিনের বৈশাখী মেলা গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানারকম পণ্যের পসরা নিয়ে এসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তবে মেলার মূল আকর্ষণ বলী খেলার ১১৪তম আসর আজ বিকাল ৪টায় লালদিঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল সকাল থেকে বৈশাখী মেলা শুরু হলেও গরমের কারণে মূলত বিকেল থেকে ক্রেতাদের আগমন এবং বিকিকিনি শুরু হয়। মেলায় মাটির তৈজসপত্র, খেলনা আর বাঁশ-বেতের আসবাবপত্র, মুড়ি-মুড়কি, গাছের চারা, ফুলঝাড়ু, হাতপাখা, ডালা, কুলো, পাটি, দা-বটি, ছুরিসহ নানা ধরনের গৃহস্থালী ও লোকজ বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বিকিকিনি শুরু করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া কাঠের তৈরি খাট, আলমিরা, আলনাসহ আরও নানা আসবাবপত্র নিয়েও বসেছেন কয়েকজন দোকানি। কুমিল্লার চান্দিনা থেকে গত ২৬ বছর ধরে কাঠের আসবাব এনে বিক্রি করেন হোসেন আলী। কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই মেলায় আমাদের তৈরি খাটের ভালো চাহিদা রয়েছে। তাই এ মেলার জন্য আগে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হয়।’

মেলায় চট্টগ্রামবাসীর সবচেয়ে বেশি নজর ফুলের ঝাড়ু, বেতের গৃহস্থালীসহ নানা সরঞ্জামের দিকে। কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে ফুলের ঝাড়ু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ী আবুল হাশেম। জোড়া ফুলঝাড়ু বিক্রি করছেন ১৫০ টাকায়। তার ভাই আবুল কাশেম দিয়েছেন হাতপাখার দোকান। আবুল হাশেম বলেন, ‘বংশ পরম্পরায় আমরা এ ব্যবসা করছি। আমার বাপ-দাদারা এখানে এসে ব্যবসা করে গেছেন। আমরাও তাদের সঙ্গে আসতাম। ফুলের ঝাড়ু ও হাতপাখা নিজেরাই তৈরি করে বিক্রি করি।’

মেলায় কথা হয় এনায়েত বাজার এলাকার শারমিন আক্তারের সঙ্গে। বেশ আগ্রহ নিয়ে মাটির ডিনার সেট দেখছিলেন সিনেমা প্যালেস এলাকার ফুটপাতে। মেলায় আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মাটির সামগ্রীর প্রতি আমার আলাদা দুর্বলতা আছে। আর একসঙ্গে এত বিচিত্র ধরনের মাটির গৃহস্থালী পণ্য এই মেলা ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যায় না। তাই একসঙ্গে পুরো বছরের জন্য গৃহস্থালী আইটেম কিনে রাখি।’ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি যুব সমপ্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করতে চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর কুস্তির প্রবর্তন করেছিলেন যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘বলী খেলা’ নামে পরিচিত। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সনের ১২ বৈশাখ নিজ নামে লালদিঘির মাঠে এই বলী খেলার সূচনা করেন তিনি। সূচনার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর লালদিঘির মাঠে ১২ বৈশাখ অনুষ্ঠিত হয় বলী খেলা। বলী খেলার একদিন আগে-পরে তিনদিন ধরে লালদিঘির পাড়সহ আশপাশের এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে বসে মেলা।

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort