পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মাঝখানে কদিন বিরতি দিয়ে আবারো বেড়েছে তাপ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশ জুড়ে নতুন করে দ্রুত দাবদাহের বিস্তার ঘটতে শুরু করেছে। গোটা দেশ ছিল বৃষ্টিহীন। গতকাল অকস্মাৎ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। কক্সবাজারে ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানীর নতুন করে তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে উঠেছে।
এর আগে দেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিলের শুরু থেকে গরম পড়তে শুরু করে। রাজধানী টানা ১৯ দিন ছিল বৃষ্টিহীন। এরপর গত শুক্রবার বহু কাঙ্ক্ষিত বারিপাতে সিক্ত হয় রাজধানী ঢাকা। এর পরের দিনও বৃষ্টি হয়। তবে তা মাত্র ১ মিলিমিটার। বৃষ্টি কম হলেও একটা স্বস্তিভাব চলে আসে নগরজীবনে। দেশের অন্যত্রও বৃষ্টির ফলে জনজীবনে কিছুটা প্রশান্তি ফেরে। এরপর গতকাল থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে আবার বাড়তে শুরু করে। দাবদাহের সঙ্গে দেশ জুড়ে বাড়ছে গরম। প্রখর সূর্যের তাতানো রোদ্দুর আর ভ্যাপসা গরমে জীবন আবারও ওষ্ঠাগত।
আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, আগামী অন্তত তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা অব্যাহতভাবে বাড়তে পারে। এটা রাজধানী এবং দেশের অন্যত্রও বাড়বে। তবে আগে যে ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়ে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছিল, তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা কম। মে মাসের শুরুতে বৃষ্টি হতে পারে টানা তিন থেকে চার দিন। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমে। এদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আসন্ন মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিষুব রেখার কাছে আন্দামান সাগরে তৈরি হতে পারে একটি ঘূর্ণাবর্ত। তা শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। বঙ্গোপসাগরে তার উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। তা ক্রমে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ওড়িশা উপকূলেও তা আছড়ে পড়তে পারে। বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হলে তার নাম হবে ‘মোচা’। নামটি দিয়েছে ইয়েমেন।


