চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে এ বছর ট্রেন চলাচল শুরু করতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বুয়েটের প্রতিবেদন অনুসারে শতবর্ষীয় পুেরানো কালুরঘাট সেতুর শক্তি বৃদ্ধিতে কারিগরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্গেট হলো, কালুরঘাট সেতুর সংস্কার ও শক্তিবৃদ্ধির মাধ্যমে সেতুটিকে ভারী ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে চলতি বছরেরই যে কোনো সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে কাঙ্ক্ষিত রেল যোগাযোগ চালু করা। এটি জুন-জুলাই অথবা অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের যে কোনো সময় হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কালুরঘাট সেতুকে সংস্কার করে ভারী ট্রেন চলাচলের উপযুক্ত করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিযুক্তির জন্য দরপত্র বাক্স খোলা হবে আগামী ১৮ মে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি বলেন, আপাতত শক্তিশালী করা সেতুর ওপর দিয়ে রেল চলাচল শুরু করা হবে। পাশাপাশি এখানে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রাক্কলিত খরচে সড়কপথে চলাচলকারী যানবাহন এবং ট্রেন চলাচল করতে পারে এ রকম একটি নতুন বহুমুখী সেতুও নির্মাণ করা হবে। এই নতুন সেতুটি কর্ণফুলী নদীর পানির সারফেস থেকে সাড়ে ১২ মিটার উঁচু করে নির্মাণ করা হবে, যাতে সেতুটির নিচ দিয়ে নানা ধরনের নৌপথে চলাচলকারী নৌযান, ট্যাংকার অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, কালুরঘাট সেতু সংস্কারে নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বুয়েট এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তবে সেতু সংস্কার করে ধীরগতিতে কালুরঘাট সেতুর ওপর দিয়ে ভারী ট্রেন চালানোর জন্য বুয়েট একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সে অনুসারে দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৮ মে দরপত্র বাক্স খোলা হবে। উপযুক্ত ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়ার পর মধ্য জুনে কালুরঘাট সেতুর শক্তি বৃদ্ধিতে সংস্কার কাজ শুরু হতে পারে। আর কালুরঘাটে একটি বহুমুখী নতুন সেতুর ব্যাপারে একটি প্রকল্প প্রস্তাব রয়েছে বলে শুনেছি।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, কালুরঘাট সেতু মেরামতের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে খুব শিগিগরই কাজ শুরু হবে। দোহাজারী-কক্সবাজার রুটের ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কক্সবাজার অংশের ৫০ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রামের অংশের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ২৫ কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি, অবশিষ্ট ২৫ কিলোমিটারের কাজ আগস্টের মধ্যে শেষ করা যাবে। এই ২৫ কিলোমিটারের ভূমি উন্নয়ন শেষ হয়েছে। এখন বসবে স্লিপার আর রেল বিট। আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ফিনিশিং ওয়ার্কসহ বাকি কাজ শেষ করে অক্টোবরে ট্রায়াল রান উদ্বোধন করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্রটি আরো জানায়, কালুরঘাট সেতু মেরামতের সময় সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। বিকল্প উপায়ে যানবাহন পারাপারে সেতুর নিচে ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফেরি এসেছে। ফেরিসংযোগ সড়ক তৈরির কাজও এগোচ্ছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বার্মা ফ্রন্টের সৈন্য পরিচালনার জন্য কর্ণফুলী নদীতে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে ১৯৩০ সালে ‘ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানি সেতু বিল্ডার্স হাওড়া’ নামক একটি সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সেতুটি নির্মাণ করে। ট্রেন চলাচলের জন্য নির্মিত ৭০০ গজ লম্বা সেতুটি সে বছর ৪ জুন উদ্বোধন করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পুনরায় বার্মা ফ্রন্টের যুদ্ধে মোটর গাড়ি চলাচলের জন্য ডেক বসানো হয়। দেশ বিভাগের পর ডেক তুলে ফেলা হয়। পরে ১৯৫৮ সালে সব রকম যানবাহন চলাচল উপযোগী করে সেতুটিকে বর্তমান রূপ দেওয়া হয়। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সেতুটির রয়েছে ২টি এব্যাটমেট, ৬টি ব্রিক পিলার, ১২টি স্টিলপিলার ও ১৯টি স্প্যান। এটি ২৩৯ মিটার দীর্ঘ।


