যাঁরা স্বপ্ন দেখায় আর
যাঁরা স্বপ্ন দেখে,
তাঁরা কি কখনো এক হতে পারে!
যাঁদের মনের ভিতরের আলোয়
আলোকিত হয় দেশের সর্বজন।
যাঁদের ছোঁয়ায় সমৃদ্ধ হয় দেশের উন্নয়ন।
তাঁরাই তো পারে স্বপ্ন দেখাতে
তাঁরাই তো পারে
সুশৃঙ্খল জাতি দিতে
তাঁরাই তো পারে
সভ্য একটা দেশ উপহার দিতে।
আজকে এমন একজন আলোকিত দেশপ্রেমিক মেধাবী তরুণ প্রজন্মের আইডল প্রিয় মানুষের কথা বলতে পেরে নিজেকে খুব ধন্য ও গর্বিত মনে করছি।
যিনি আমাকে সবসময় স্নেহের চোখেই দেখে।
আসুন আমরা সেই আলোচিত দেশপ্রেমিক মেধাবী মানুষটির সম্পর্কে জানি।
ভ. নিক বড়ুয়া।
‘জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ’ এর অবদানে এক অনন্য নাম ড. নিক বড়ুয়া। ১৯৮০ ইংরেজী তে ১৩ ই মার্চ চট্টগ্রামের সার্সন রোড়স্হ আসকার দিঘির পাড় এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা: বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী কীর্তিমান শিশুসাহিত্যিক ও কথাশিল্পী দীপক বড়ুয়া।যিনি চট্টগ্রামের প্রবীণ কীর্তিমান শিশুসাহিত্যিক ও কথাশিল্পী নামে বেশ পরিচিত।মাতা :চন্দা বড়ুয়া, যিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত। দুই ভাইয়ের মধ্যে ড. নিক বড়ুয়া বড়, ছোট ভাই প্রিতম বড়ুয়া আসাদগঞ্জ এ আড়তদার ব্যবসায় জড়িত।
অল্প বয়সে নিক বড়ুয়া উচ্চ শিক্ষার জন্য সুদূর জাপানে পাড়ি জমায়। জাপান থেকে নিক বড়ুয়া বিভিন্ন দেশে বসবাস করার সুযোগ হয়েছে। বর্তমানে ড. নিক বড়ুয়া সপরিবারে জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
তার জীবনসঙ্গী জাপানি আসুকা বড়ুয়া এবং একমাত্র সন্তান লিওন এই নিয়ে তার ছোট্ট পরিবার।
নিক বড়ুয়া জাপানে Yale university থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে BSc in physics এবং California institute technology থেকে জ্যোতি পদার্থবিদ্যায় MSc in সম্পন্ন করেন। এবং Hartfordshire university থেকে প্রকল্প ব্যবস্হাপনায় PhD ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালের সিইও পুরস্কার (জাপান) পেয়েছেন। এবং অতিসম্প্রতি ড. নিক বড়ুয়া দ্যা ইনক ম্যাগাজিন থেকে ‘এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী লিডার ২০২৩’ নির্বাচিত হয়েছেন। দ্যা ইনক ম্যাগাজিন একটি আমেরিকান বিজনেস ম্যাগাজিন ।
ড. নিক বড়ুয়া হলেন একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোত্তা ,ব্যবসায়িক নির্বাহী এবং কারিগরি শিল্পে কাজ করার প্রমাণিত ইতিহাসসহ পদার্থ বিজ্ঞানী।
ড. নিক বড়ুয়া জাপানের বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম, টেলি মেডিসিন ফার্ম এবং একাডেমিক শিক্ষাগত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নির্বাহী পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
ড. নিক বড়ুয়া বর্তমানে swift xi Inc এর coo। সুইফট ইন্জিনিয়ারিং ইনক এবং কোবে ইনস্টিটিউট অফ কম্পিউটিং এর মধ্যে একটি জাপানি যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি। যা সম্পূর্ণ পরিষেবা পরিচালনার জন্য পরামর্শ প্রশিক্ষণ,ডেটা বিশ্লেষণ এবং আইটি পরিষেবা প্রদানকারী একটি স্বায়ত্তশাসিত রোবেটিক মহাকাশ কোম্পানি।
নিক এছাড়াও জাপানে T-icu co ltd এর নির্বাহী বোর্ড সদস্য। T-icu co ltd. একটি নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি বিশেষ দল নিয়ে জাপানি স্টাট-আপ যেটি দূর থেকে ডাক্তারের পরামর্শ সহায়তা প্রদান করে থাকে। বিশেষ করে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে এর জন্য।
নিক বড়ুয়া শিগা ইউনিভার্সিটি অফ মেডিকেল সায়েন্স জাপান, কোবে গাকুইন ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রাম (ইউ এস টি সি) এবং মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (এম সি এম সি) এর মতো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে বেশ কয়েক টি ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. নিক বড়ুয়া AN Inc জাপান এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। এন ইনক একটি বিনিয়োগ পরামর্শকারী সংস্থা যা ব্যবসা বানিজ্য, সরকার অলাভজনক, বেসরকারি, এবং প্রকৌশল সংস্থা গুলিকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা সেবা দিয়ে থাকে।
‘জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ’ এর সেতু বন্ধনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ড. নিক বড়ুয়ার হাত ধরে জাপানের নামকরা রিয়েল এস্টেট কোম্পানি Kanbe group ltd ২০১২ ইংরেজী তে বাংলাদেশ এ প্রবেশ করে ব্যবসায়িক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে।
এবং সফল ভাবে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয় ব্যবসায়িক পরিমন্ডলে।
এছাড়াও নিক বড়ুয়া ২০১২ ইং হইতে ২০১৪ ইংরেজি মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি কাজ তার হাত ধরে জাপান-বাংলাদেশ দুই দেশের মধ্যে সুন্দর ভাবে সম্পন্ন হয়। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলো ১) চট্টগ্রাম বন্দর এবং জাপান কোবে বন্দরের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা। তখন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ ( Osp, NDC, PSC)
ড. নিক বড়ুয়ার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বন্দরের একদল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে জাপান কোবে বন্দর পরিদর্শন এ যান। এবং এর মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এর সেতু বন্ধন আরও দৃঢ় হয় ডঃ নিক বড়ুয়ার হাত ধরে।
পরবর্তী তে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নিজাম উদ্দীন আহমেদ ২০১৫ সালে জানুয়ারি মাসে নৌ বাহিনীর প্রধান হিসেবে যোগ দেন। এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এর সাবেক অধ্যক্ষ ও ডীন প্রফেসর ডাক্তার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর দায়িত্ব পালনকালে ড. নিক বড়ুয়া জাপানের বিখ্যাত কয়েকটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে চুক্তিবদ্ধ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করার ব্যবস্থা করেছেন এই দেশপ্রেমিক মেধাবী নিক বড়ুয়া।
ইতিমধ্যে জাপানের নামকরা একটি টেলি মেডিসিন কোম্পানি T-icu co ltd JAPAN, নিক বড়ুয়ার হাত ধরে জাইকা ও জেট্রো প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে। ড. নিক বড়ুয়া ২০১৮ সাল,২০১৯ সাল,২০২২ ও ২০২৩ সালে চারবার , T-icu co ltd JAPAN এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ডাঃ মোটোয়ুকি নাকানিশিকে বাংলাদেশে এনেছিলেন। এবং এই টেলি মেডিসিন কোম্পানির সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন এর মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে দেয় এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অফ কমার্স এর সভাপতির সঙ্গে ও যোগসূত্র স্থাপন করে এই দেশপ্রেমিক নিক বড়ুয়া। এছাড়াও বাংলাদেশে জাইকার প্রতিনিধি, জেট্রোর প্রতিনিধি, জাপানের বাংলাদেশ রাষ্ট্র দূতাবাসের সাথে ও দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ড. নিক বড়ুয়া।
ড. নিক বড়ুয়ার ইচ্ছা টেলি মেডিসিন কোম্পানি T-icu co ltd JAPAN এর মাধ্যমে কোনো বাংলাদেশী ক্লিনিকে যোগ দেওয়ার বা বাংলাদেশ এ একটি জাপানি স্ট্যান্ডার হাসপাতাল তৈরি করার পরিকল্পনা। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে দুই দেশের যোগসূত্র স্থাপন করে দেয় ড. নিক বড়ুয়া।
অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, সম্প্রতি জেট্রোর অর্থায়নে চট্টগ্রাম মেরিন সিটি কলেজ ও হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে পরিক্ষামুলক ভাবে T-icu co ltd JAPAN তাদের টেলি প্রজেক্ট স্হাপন করেছেন। এবং পরীক্ষামুলক ভাবে সফল ও হয়েছেন। ভবিষ্যতে এই দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন ড. নিক বড়ুয়া।
ড. নিক বড়ুয়া বলেন, যাঁরা সূর্যালোকের মতো নিজেকে অনুভব করেন তাদের কাছাকাছি থাকুন। তিনি আরো বলেন, নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
ড. নিক বড়ুয়া সবসময়ই তাগিদ দেন উৎসাহী হতে, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে এবং পেশাদারিত্বের মনোভাব রাখতে।
চট্টগ্রামের প্রচার বিমুখ একনিষ্ঠ দেশপ্রেমিক ও দায়িত্ববান মেধাবী তরুণ প্রজন্মের আইডল ড. নিক বড়ুয়ার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল ও সুন্দর দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করছি।
লেখক : বংশীবাদক ও সংস্কৃতিকর্মী


