২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদআশপাশরসালো ফলের মধুমাস এখন

রসালো ফলের মধুমাস এখন

এখন চলছে বাংলা সনের দ্বিতীয় মাস জ্যৈষ্ঠ,মধুমাস। এ সময় সুস্বাদু ফলের বিপুল সমারোহ হয় বলে সবার কাছে মাসটি মধুমাস নামে পরিচিত। ফলের রাজা আম ছাড়াও কাঁঠাল, লিচু, আনারসসহ প্রচুর রসালো ফলের স্বাদ নেন এ সময় সব বয়েসের মানুষ।

তবে এবার মধুমাস এসেছে নতুন পরিস্থিতিতে, করোনা আক্রান্ত পরিবেশে। সঙ্গে চলছে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি। ফলে দেশে নানান জাতের বিপুল পরিমাণ ফল উৎপাদন হলেও বাজারে বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। এরই মধ্যে আজ শনিবার মৌসুমি ফলের বাজারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠক করবে কৃষি মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বছরজুড়ে দেশে কম-বেশি ফল পাওয়া গেলেও সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় বৈশাখের শেষ সময়ে এবং এ জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরু থেকে। এবারও বিভিন্ন রসালো ফলের সমাহার নিয়ে মধুমাসের আগমন ঘটেছে। আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল, জামরুল, তরমুজ, আনারস, ছাড়াও এ মাসে পাওয়া যাবে লটকন, পেয়ারা, বাঙ্গি।
বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আম, লিচু, তরমুজ, বাঙ্গি এবং কাঁঠাল এরই মধ্যে বাজারে চলে এসেছে। জাম, জামরুল, পেয়ারা, আনারসও পাওয়া যাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, মাসের শেষ দিকে আরো পাওয়া যাবে কামরাঙা, ছফেদা, গাব ও আমড়া। মধুমাসের এই দেশীয় ফল আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। একই সঙ্গে স্বাদ আর পুষ্টিতেও অনন্য।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিভিন্ন রসালো ফলের আড়ম্বরপূর্ণ জোগান শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশে ফলের উৎপাদন বছরে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ টন। এর প্রায় ৫০ শতাংশ উৎপাদিত হয় জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাসের মধ্যে। বাকি ৫০ শতাংশ উৎপাদিত হয় অবশিষ্ট ৯ মাসে। ফল উৎপাদনে পৃথিবীর প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান। গত দুই দশকে দেশে ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার ১১ শতাংশের ওপর। জ্যৈষ্ঠের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়েছে গাছ থেকে আম পাড়া। লিচু পাড়া শুরু হবে আরো সপ্তাহখানেক পরে। তার কিছুদিন পরে বাজারে আসবে পাকা কাঁঠাল। এ ছাড়া মধুমাসে আনারস, পেয়ারা, লটকন ও বাঙ্গির সরবরাহ বৃদ্ধি পায় বাজারে। এ ফলগুলো খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। এ সময় পরম আবহাওয়ায় মানুষকে কিছুটা শান্তি দেয় এসব রসালো ফল। দেশে এবার আম, লিচু ও কাঁঠালের ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ ভালো। কিন্তু করোনার কারণে যাতায়াত ও বিপণন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে আছেন।’

সামপ্রতিককালে ফল বেচা-বিক্রির ধরন পাল্টে গেছে। রিকশাভ্যানে বৈচিত্র্যময় রসালো ফলের পসরা সাজিয়ে বিক্রেতারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন শহর বাজার গ্রাম মহল্লায় মহল্লায়। ফলের উৎসবের মাস হওয়ায় এ সময় দামও কিছুই সহনীয় থাকে।

দেশে এবার আম, লিচু, কাঁঠালের ফলন ভালো হলেও করোনার কারণে বাজার পাওয়া নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফলের বাজার কেমন যাবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে গুটি জাতের আম পাড়া। এরপর পাড়া হবে গোপালভোগ, রানীপ্রসাদ, লক্ষ্মণভোগ ও হিমসাগর। এ ছাড়া ল্যাংড়া, রুপালি, ফজলি ও আশ্বিনা আম পাড়া শুরু হবে জুন-জুলাইয়ে। সপ্তাহখানেক পর লিচু উঠবে বাজারে। অথচ এখনো আড়ত থেকে আম ও লিচুর বায়না করতে শুরু করেননি পাইকাররা। আম-লিচু চাষিরা কার কাছে বিক্রি করবেন, সে হিসাব মেলাতে পারছেন না।

সর্বশেষ