সাম্প্রতিক সময় বাংলাদেশি পর্যটকরা নিউমার্কেট এলাকায় রাতের দিকে ছিনতাইকারী, বহিরাগতের উপস্থিতিসহ বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেবল তাই নয়, নিউমার্কেটে হোটেল না পাওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় এমনও হয়েছে যে, হোটেল না পেয়ে রাস্তায় রাত কাটাতে হয়েছে পর্যটকদের। বিশেষ করে বড়দিন, বছরের শেষ দিনে এরকম ঘটনা সামনে আসে।
এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা! এসব কারণে নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
তবে খুব দ্রুত যেন এসব সমস্যা সমাধান এবং যেসব বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটছে সেগুলোও যেন শূন্যে নামিয়ে আনা যায়, সে লক্ষ্যে কলকাতায় এক যৌথ মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়। ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন, মার্কুইস স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট রেসিডেন্সিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, হোটেল এবং রেস্তোরাঁ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, নিউমার্কেট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই সভা আয়োজন করে।
সভায় বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ করার দাবি তুলে ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ কুমার সাহা বলেন, নিউমার্কেট এলাকা মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভিসা সমস্যার কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশি পর্যটক কমে গেছে। ফলে আমাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি জানান, কয়েক মাস আগেও দৈনিক ৭-৮ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক ভারতে আসতেন। এদের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার পর্যটকের ঠিকানা হতো নিউমার্কেট। এখন সেখানে ৫ শতাধিক পর্যটকও আসছেন না। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে অভিবাসন দপ্তরেও বাংলাদেশি পর্যটকদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছেন।
তবে নিউমার্কেটকে অসুরক্ষিত মানতে নারাজ কটন গ্যালারির কর্ণধার কামরুদ্দিন মালিক। তার ভাষ্য, ছোটখাটো বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটছে, এটা সত্যি। তবে সেই ঘটনাও যেন আর না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করার জন্যই আমরা আজ মিলিত হয়েছি। বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কথা ভেবে শিগগিরই পুরো নিউমার্কেট চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এর পাশাপাশি চালু করা হবে হেলথ ডেস্ক। কেউ যদি কোনো বিপদে পড়েন, ফোন করলেই তার সমস্যার সমাধান করা হবে।
সভায় হোটেল মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি পর্যটকদের সুরক্ষায় নিউমার্কেট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হবে। এর পাশাপাশি মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি হেল্প ডেস্ক করা হবে। কোনো বাংলাদেশি পর্যটক কোনোপ্রকার সমস্যার সম্মুখীন হলে হেল্প ডেস্কে ফোন করলেই ২৪x৭ ভিত্তিতে তাকে সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।