প্রচ্ছদবিশেষ ফিচারটুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ যেন মৌনতার সুতোয় বোনা শুভ্র চাদর

টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর সমাধি সৌধ যেন মৌনতার সুতোয় বোনা শুভ্র চাদর

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া। আবার এখানেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে তিনি। মা বাবার কবরের পাশে বঙ্গবন্ধু কবর। আর এই তিনটি কবর ঘিরে নির্মাণ করা হয়েছে এক বিশাল সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স।

সমাধিসৌধটি পাল্টে দিয়েছে টুঙ্গিপাড়ার চিত্র। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা জানাতে প্রতিদিন  দেশবিদেশ থেকে হাজার মানুষ আসে এখানে। মুজিবভক্ত,নেতাকর্মীসহ শিক্ষক শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে ভিড় করেন টুঙ্গিপাড়ায় ।

বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ, শেখ রাসেল শিশু পার্কসহ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো ঘিরে পর্যটন এলাকায় রূপ নিয়েছে টুঙ্গিপাড়া। টুঙ্গিপাড়া গ্রামটি বাইগার নদীর পারে। নদীটির পারে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি। এই বাড়িতেই সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স। এটি ৩৮.৩০ একর জমির ওপর।

বঙ্গবন্ধুসহ বাবা মা সমাধি স্থাপত্যশৈলী। লাল সিরামিক ইট আর সাদা-কালো টাইলস দিয়ে গ্রিক স্থাপত্যশিল্পের আদলে নির্মিত সমাধি কমপ্লেক্স।

কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বেদনার চিত্র। সাদা পাথরে নির্মিত গোলাকার এক গম্বুজবিশিষ্ট সমাধিসৌধের ওপর দেয়ালে জাফরি কাটা। জাফরি কাটা দিয়ে সূর্যের আলো প্রবেশ করে। ওপরে কাঁচের কারুকাজ দিয়ে ও বিভিন্ন আঙ্গিকে বাইরের আলো ছড়িয়ে পড়ে কবরের স্থানে।

চারদিকে কালো টাইলস ও মাঝখানে শ্বেত শুভ্র টাইলসে বঙ্গবন্ধুর কবরটি বাঁধানো। কবর তিনটি ঘিরে রাখা হয়েছে রেলিং দিয়ে।

বঙ্গবন্ধু সমাধি আশপাশে দর্শনীয় স্থান:বঙ্গবন্ধু সমাধি কমপ্লেক্সের আশপাশের এলাকায় আরো অনেক কিছু দেখার রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদি পৈতৃক বাড়ি ছেলেবেলার খেলার মাঠ, প্রিয় বালিশা আমগাছ, বড়তালাব পুকুর শেখবাড়ি জামে মসজিদ স্থাপিত ১৮৫৪ সালে, হিজলতলা ঘাট, যেখানে বঙ্গবন্ধু ছোটবেলায় গোসল করতেন ও সাঁতার কাটতেন।

প্রবেশের ১ নম্বর গেট কাছে রয়েছে একটি পাঠাগার ও জাদুঘর। পাঠাগারে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা বইসহ প্রায় আট হাজার বই রয়েছে। রয়েছে গবেষণাকেন্দ্র, প্রদর্শনীকেন্দ্র, উন্মুক্ত মঞ্চ, পাবলিক প্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ক্যাফেটেরিয়া, মসজিদ, বকুলতলা চত্বর ও স্যুভেনির কর্নার।

সমাধি কমপ্লেক্স থেকে ৩০০ মিটার দূরে সাবেক খাদ্যগুদামের পাশে বাইগার নদীর তীরে ও দুই কিলোমিটার দূরে পাটগাতী বাজারসংলগ্ন মধুমতী নদীর তীরে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত দৃষ্টিনন্দন দুটি লঞ্চঘাট। সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের পাশেই টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার উদ্যোগে নির্মিত শেখ রাসেল শিশু পার্ক।

প্রদর্শনীকেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের আলোকচিত্র, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন শিল্পীর আঁকা শিল্পকর্ম, মুক্তিসংগ্রামের নানা পর্যায়ের দেশ-বিদেশ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্র রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে যে কফিনে করে ঢাকা থেকে সামরিক হেলিকপ্টারে নিয়ে আসা হয়েছিল, সেটিও সংরক্ষিত এখানে। কমপ্লেক্স এলাকায় দর্শনার্থীরা বঙ্গবন্ধুর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, আন্দোলন সংগ্রাম, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে।

দর্শনার্থীদের জন্য সময়: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স এবং সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাঠাগার খোলা থাকে।

 

 

সর্বশেষ