চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি মতিভাণ্ডার দরবার শরিফের প্রাণপুরুষ মহানসুফি, মজজুবে সালেক,কাশফ ও কারামতের খনি,আরেফ বান্দাদের পথপ্রদর্শক, গাউসেভাণ্ডার হজরত মতিয়র রহমান শাহ্(ক.) (প্রকাশ শাহ্সাহেব কেবলা) ফরহাদবাদীর ৬১তম পবিত্র বার্ষিক ওরশ শরিফ মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাউসিয়া রহমানিয়া ফয়েজিয়া মঞ্জিলের উদ্যোগে মহাসমারোহে দরবার শরিফে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সকাল ৭টায় শাহসাহেব কেবলা ফরহাদাবাদী এবং তাঁর জানাজা শরিফের ইমাম, আধ্যাত্মিক ফয়েজপ্রাপ্ত আওলাদে গাউসেভাণ্ডার হজরত শাহ্সুফি মওলানা আবুল ফয়েজ শাহ্ (র.) ফরহাদাবাদীর মাজারে পবিত্র কেরআন শরিফ খতম ও মিলাদ মাহফিল, সকাল ১০টায় গোসল ও পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্যদিয়ে ওরশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
এরআগে সোমবার থেকেই ভক্তরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাদ্য বাজনার সাথে নেচে গেয়ে মতিভান্ডার দরবার শরীফে হাজির হতে থাকেন। মঙ্গলবার দরবারে ছিল ভক্তদের ঢল। ওরশ উপলক্ষে দরবারের কাছের মাঠে বিশাল মেলা বসে। হাজারো ভক্তের সমাগমে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে ওরশের আয়োজন।
এছাড়া দিনব্যাপী বিভিন্ন মানবিক কর্ম ও ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে ভক্তরা দিনটি উদযাপন করে। রাত ৮টায় শাহসাহেব কেবলার জীবনী শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন শাহ্সাহেব কেবলার আওলাদ-সাজ্জাদানশীন মাওলানা আবদুল হালিম শাহ, মোহাম্মদ আবদুল করিম শাহ্, মোহাম্মদ আবদুল হাকিম শাহ্, ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিম শাহ্, মোহাম্মদ হাসানুল বান্না শাহ (রাসমু), ইঞ্জিনিয়ার তিতুমীর বান্না শাহ্।
পবিত্র শরিফ উপলক্ষ্যে দরবারের বংশীয় ও আধ্যাত্মিক উত্তরসূরি ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিম শাহ্ লিখিত ‘প্রকৃতি, ভারতবর্ষ ও মাইজভান্ডারী দর্শন’,ইসলাম ও বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সৃষ্টিতত্ত্ব ও পঞ্চতত্ত্ব, ‘আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞান’ ‘অ্যাস্ট্রলজি অ্যাস্ট্রনমি ও আধ্যাত্মিকতা’, ‘নারী সৃষ্টির রহস্য ও পবিত্র সত্তা’, ‘সুফিবাদ চর্চা কেন প্রয়োজন’ গ্রন্থসমূহ এবং সাবেক সংসদ সদস্য, চাকসু ভিপি মজহারুল হক শাহ্ চৌধুরী লিখিত শাহ্ সাহেব কেবলার জীবনী গ্রন্থ ‘গাউছে রহমান’, ডক্টর এস এম লিখিত জীবনী গ্রন্থ ‘গাউছেভাণ্ডার’, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর ওমেন এর অধ্যাপক মাসুউদুর রহমান সম্পাদিত স্মারক গ্রন্থ ‘মহিমাময় জীবন’, ম্যাগাজিন কী বুদ্ধি সুবুদ্ধি, দরবারের একনিষ্ঠ ভক্ত নোয়াপাড়া ডিগ্রী কলেজের ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক শেখ বিবি কাউসার লিখিত ‘ভাবনার খেরুখাতা’সহ সকল গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া প্রকাশিতব্য ড. মোহাম্মদ আবদুল আজিম শাহ্ লিখিত ‘মাইজভাণ্ডার কেন যাবেন’, এবং ভারতবর্ষ সহ মাইজভাণ্ডার জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রজ্ঞানের ভাণ্ডার নামে আরো দুটি গ্রন্থ প্রকাশনার বিষয়ে সম্ভাব্য আলোকপাত করা হয়।
রাত ১০টায় কাওয়ালী মাহফিল, সর্বশেষ আখেরি মোনাজাত ও তবারক বিতরণের মাধ্যমে ওরশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
মহান এ সুফি সাধকের ওরশ শান্তিপূর্ণভাবে সুসম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রশাসনসহ সকল আশেক ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম নানুপুরি


