১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদআশপাশএবার হজের খুতবা বাংলাসহ ৩৫ ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করা হবে

এবার হজের খুতবা বাংলাসহ ৩৫ ভাষায় সরাসরি অনুবাদ করা হবে

অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবের মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির তত্ত্বাবধানকারী সংস্থার অধীনে ধর্ম বিষয়ক বিভাগ এবারের হজের খুতবা ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করার উদ্যোগ নিয়েছে।

হজের খুতবা আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত নামিরা মসজিদ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যার ফলে ৫০ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন। হজের আধ্যাত্মিক শিক্ষা বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় খুতবার অনুবাদ সম্প্রচার করা হয়।

হজের খুতবা যেসব ভাষায় অনুবাদ করা হবে তার কয়েকটি হলো- বাংলা, ফ্রেঞ্চ, মালয়, উর্দু, ফারসি, চাইনিজ, তুর্কি, রাশিয়ান, হাউসা, ইংরেজি, সুইডিশ, স্প্যানিশ, সোয়াহিলি, আমহারিক, ইটালিয়ান, পর্তুগিজ, বসনিয়ান, মালায়লাম, ফিলিপিনো ও জার্মান ইত্যাদি।

সৌদি বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, ১৪৩৯ হিজরি মোতাবেক ২০১৮ সালে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের বিশেষ নির্দেশনায় আরাফাতের খুতবা অনুবাদ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম পর্যায়ে শুধু পাঁচটি ভাষায় তা সম্প্রচার করা হয়। পরে ভাষার সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত বছর বাংলাসহ বিশটি ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ প্রচার করা হয়।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির পরিচালনা পরিষদের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস-সুদাইস বলেছেন যে, ‘দুই পবিত্র মসজিদ থেকে ইসলামের মধ্যপন্থার বার্তা বিশ্বে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩৫টি আন্তর্জাতিক ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বে ইসলামের মধ্যপন্থী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আরাফাতের খুতবা বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’

‘দুই পবিত্র মসজিদ বিষয়ক অধিদপ্তর একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং আল্লাহর মেহমান হাজিদের আরও উন্নত সেবা প্রদান এবং বিশ্বজুড়ে ইসলামের প্রকৃত বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার খুতবা অনুবাদের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন এবং তা দ্রুতই সম্পন্ন হবে।’

এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মসজিদে হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালেহ বিন হুমাইদ। শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ ১৩৬৯ হিজরিতে সৌদি আরবের কাসিম প্রদেশের বুরাইদাহে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি মক্কায় শরিয়া ও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে ১৩৯২ হিজরিতে স্নাতক এবং ১৩৯৬ হিজরিতে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৪০২ হিজরিতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

সালেহ বিন হামিদ মক্কার পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদের ইমামদের মধ্যে সর্বপ্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৪২১ হিজরিতে তিনি পবিত্র মসজিদে হারাম ও পবিত্র নববি বিষয়ক পরিষদের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন।

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ আলে-শায়খ সবচেয়ে বেশিবার হজের খুতবা দিয়েছেন, তিনি টানা ৩৪ বছর খুতবা প্রদান করেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন শায়খ আবদুল্লাহ বিন হাসান আলে-শায়খ, তিনিও টানা ২৫ বছর ধরে আরাফাতের খুতবা প্রদান করেছেন। গতবছর হজের খুতবা দিয়েছেন শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মোহাম্মদ আল-মুয়াইকিলি।

পবিত্র মক্কা নগরী থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত নামিরা মসজিদ থেকে হজের খুতবা দেওয়া হয় স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া বারোটায়। বাংলাদেশ সময় তখন বিকেল সোয়া ৩টা।

এবার খুতবার বাংলা অনুবাদ কার্যক্রমে রয়েছেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক ও নাজমুস সাকিব। তারা সবাই মক্কার উম্মুল কুরা ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন।

যেকোনো ডিভাইস থেকে মানারাতুল হারামাইন (https://manaratalharamain.gov.sa/) ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে একটি ভাষা নির্বাচন করলে খুতবার অনুবাদ শোনা যাবে।

তা ছাড়া মানারাতুল হারামাইন মোবাইল অ্যাপ, আল কোরআন চ্যানেল ও আস সুন্নাহ চ্যানেলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেল (https://www.youtube.com/¦tubesermon), ফেসবুক ও টুইটারে তা শোনা যাবে। আর ওয়েবসাইটে বিগত বছরের খুতবা ও এর অনুবাদও পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort