আমি শিশির মল্লিক আমার আত্মপরিচয়ের, বেড়ে ওঠার, সমৃদ্ধ হবার পীঠস্থান চট্টগ্রাম সরকারী চারুকলা কলেজ। আজ আমি শিল্পী, কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, বক্তা, রাজনীতিক যা হই না কেন তার জন্য এই কলেজটির কাছে ঋণী। এই কলেজে পড়ার সুযোগ হয়েছিলো বলে আমি একজন সৃজনশীল মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছি। তাই এই কলেজ আমার মাতৃ-পিতৃসম। আমার শিক্ষক, সহপার্টি, কর্মচারীরা আমার প্রেরণার স্থল। প্রত্যেকের কাছে আমার ঋণ রয়েছে।
আমি একা নই। বহু প্রতিভা ও মেধার জন্ম দিয়েছে স্বাধীনতাত্তোর এই প্রতিষ্ঠানটি। আর এর সাথে আমাদের জাতির সংস্কৃতি জগতের অন্যতম পুরোধা শিল্পী রশিদ চৌধুরীর অবদান ও প্রয়াস এবং ভবিষতমুখীন উদ্দেশ্য জড়িত।
মাঝখান থেকে কেন এটি ইনিস্টিটিউট আবার কেন তা প্রত্যাখ্যাত আবার কেনই বা একে নিয়ে অন্যকিছু করার প্রয়াস এসবের পেছনে বিবিধ কারণ থাকতে পারে। থাকতে পারে স্বার্থান্বেষীদের ষড়যন্ত্রও।
কিন্তু রাষ্ট্রনায়ক যারা, তারা তো শিশু নন। তারা তো জাতির স্বার্থটা বুঝবেন? তাদের কাছে কেন দাবী তুলতে হয় একে রক্ষা করো বাঁচাও। তারা তো আধুনিক সমাজে শিল্পের গুরুত্ব এর প্রায়োগিক ও ধারণাত্মক সৃজনশীল চর্চার বিষয়টি বুঝে তাকে আরো কিভাবে সমসাময়িক প্রযুক্তি নির্ভর কমিউনিকেশন ও এপ্লায়েড আর্টের শিক্ষা নির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপ দেয়া যায় সে কাজটি করবেন। তা না করে একে বিলুপ্ত করার প্রয়াস নিশ্চয় সুবিবেচনার কাজ নয়।
লক্ষ্য করা যাচ্ছে, একে রক্ষা করার দাবীতে ব্যক্তি সংগঠন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাদের দাবী জানিয়ে আসছেন। কিন্তু একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তাতে প্রতিফলন ঘটছে বলে মনে হয় না। পুনরায় একে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ পুনর্প্রতিষ্ঠার দাবীই প্রাধান্য পাচ্ছে। আমার কাছে এ দাবীটার চাইতেও বেশিকিছু প্রত্যাশার আছে। এবং সেটা আজকের প্রযুক্তি নির্ভর ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্ট ও কমিউনিকেশন রিলেটেড আর্টের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
আমার প্রস্তাবনা এসব বিষয় যুক্ত হতে পারে, কারো কাছে আরো যুগোপযোগি কিছু থাকলে যুক্ত করা যেতে পারে।
মার্চেন্ডাইজিং, টেক্সটাইল ডিজাইন, প্যাকেজিং, প্রেস পাবলিকেশন্স, ব্রান্ড কমিউনিকেশন্স, বিজ্ঞাপন নির্মাণ, ফিল্ম মেকিং, ফটোগ্রাফি, মডেলিং, প্রোডাক্ট মডেল ডিজাইনিং, ফ্যাশন ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন, এ্যানিমেশন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এডুকেশন (যার মধ্যে মডেল ড্রয়িং, স্ক্রিপ্ট, স্টোরি বোর্ড তৈরি, ডিজাইন সফটওয়্যার শিক্ষা, সাউন্ড, লাইট, ক্যামেরা, মিউজিক, ব্যাকগ্রাউন্ড ডিজাইন, এ্যানিমেশন, এডিটিং, প্রভৃতি থাকবে ) ভিডিও এডিটিং, টাইপোগ্রাফি, শিল্পনির্দেশনা (পত্রিকা, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, নাটক, সিনেমা প্রভৃতি ক্ষেত্রে), প্রেজেন্টেশন আর্ট প্রভৃতি ।
এ বিষয়গুলো সমেত প্রস্তবনা নিয়ে আন্দোলনটি একটি যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে- আমার বিশ্বাস।
এখানে চাই আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান, বহু প্রতিভা ও মেধাসৃষ্টিকারি চট্টগ্রাম চারুকলা কলেজ একটি আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নির্ভর আর্ট এন্ড কমিউনিকেশন্স ইউনিভার্সিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাক।


