১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদআশপাশসাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট চেইঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের শ্রীলঙ্কা চ্যাপটার গঠিত

সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট চেইঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের শ্রীলঙ্কা চ্যাপটার গঠিত

অনলাইন ডেস্ক

আঞ্চলিক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পথিকৃৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে সাউথ এশিয়ান ক্লাইমেট চেইঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম (সাকজেএফ) গত শনিবার ২৬শে জুলাই, কলম্বোর কাটাঁনার বোলাগলা এগ্রো ফ্লোটিং রিসোর্টে শ্রীলঙ্কা চ্যাপটার গঠন করেছে।

শ্রীলঙ্কা প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (এসএলপিএ– ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত) এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাকজেএফ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আশিস গুপ্ত (দিল্লি, ভারত), মহাসচিব কেরামত উল্লাহ বিপ্লব (ঢাকা, বাংলাদেশ) এবং কোষাধ্যক্ষ মাছুম বিল্লাহ (ঢাকা, বাংলাদেশ) উপস্থিত ছিলেন। তারা গত সপ্তাহে পাঁচ দিনের বিশেষ সফরে কলম্বো ভ্রমণ করেছেন। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে রিপোর্ট করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শ্রীলঙ্কার একদল সক্রিয় এবং উদ্যমী সাংবাদিককে নিয়ে নতুন এই কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।

সাকজেএফ’র সভাপতি আশিস গুপ্ত বলেন, সাংবাদিকরা কেবল পর্যবেক্ষক নন, তারা সত্যের বর্ণনাকারী এবং অনাহূত কণ্ঠস্বরের প্রসারক। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যখন সাংবাদিকরা একটি ডুবে যাওয়া গ্রাম বা ফসলের ক্ষতির মতো কঠোর বাস্তবতা তুলে ধরেন, তখন তারা কেবল সংবাদ পরিবেশন করেন না, বরং একটি পদক্ষেপের জন্য আহবান জানান। তিনি শ্রীলঙ্কাকে তাদের অনন্য পরিবেশগত গল্পগুলো বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরার আহবান জানান।

সাকজেএফ’র মহাসচিব কেরামত উল্লাহ বিপ্লব অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন। যা ভারত, বাংলাদেশ এবং নেপালের মতো পূর্বে গঠিত অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় চ্যাপটার গুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তিনি পরিবেশের জন্য সচেতনতা বাড়াতে এবং ন্যায়বিচার চাইতে সাংবাদিকদের কণ্ঠস্বর ব্যবহারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

সাকজেএফ’র কোষাধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি মাছুম বিল্লাহ বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভাবনার পুরোভাগে চলে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি। অঞ্চলটি এমনিতেই রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল; এর ওপর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এখানকার জন্য বড় এক বাস্তবতা। তাই সম্ভাব্য বিপদ এমনভাবে মোকাবিলা করতে হবে, যাতে মানবিক সংকট এড়ানো যায়।

নবনিযুক্ত সাকজেএফ’র শ্রীলঙ্কা শাখার সভাপতি কুরুুলু ক‚জানা কারিয়াকারাওয়ানা কেন্দ্রীয় কমিটির বিদেশি প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু বিষয়ে সহযোগিতা করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনকে পৃথিবীর সকল জীবের মুখোমুখি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং টেকসই ও কার্যকর সমাধান নিয়ে কাজ করার জন্য এই চ্যাপটার পূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা জানান।

এসএলপিএ এবং সাকজেএফ যৌথভাবে বোলাগলা এগ্রো ফ্লোটিং রিসোর্টের চেয়ারম্যান কেলুম পেরেরা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুণা পেরেরাকে একটি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করে। কাটাঁনার বোলাগলায় পরিত্যক্ত মাটির খনিকে একটি আকর্ষণীয় পরিবেশ পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্ভাবনী ইকো-ট্যুরিজম ধারণার স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সাকজেএফ’র মহাসচিব কেরামত উল্লাহ বিপ্লব এই রিসোর্টের প্রশংসা করে বলেন, এই অঞ্চলে তিনি এমন ধারণা আর কোথাও দেখেননি। তিনি পেরেরাকে এই মডেলটি অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে প্রবর্তনের আমন্ত্রণ জানান।

কলম্বোতে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক আলোচনায় এসএলপিএ’র সভাপতি কুরুুলু ক‚জানা কারিয়াকারাওয়ানা, জাতীয় সম্পাদক থারাকা বিক্রমসেকেরা এবং জাতীয় সংগঠক থিলাঙ্কা কনাকারতœা আনুষ্ঠানিকভাবে সফররত প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।

২০২২ সালের নভেম্বরে শার্ম এল শেইখে (মিশর) অনুষ্ঠিত কপ ২৭ জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের সাথে সঙ্গতি রেখে সাকজেএফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ভারত, বাংলাদেশ এবং নেপাল চ্যাপটার গঠন করা করেছে। আগস্ট মাসে পাকিস্তান চ্যাপটার গঠনের কথা রয়েছে।

সাকজেএফ– শ্রীলঙ্কা চ্যাপটারের কমিটির নির্বাচিত সদস্যরা হচ্ছেন সভাপতি: কুরুলু ক‚জানা কারিয়াকারাওয়ানা (ডেইলি মিরর), সহ-সভাপতি: ভিনীথা এম. গামাগে (মোনারা), মহাসচিব: সুপুন মাদুওয়ান্থা আবেইসেনা (ড্যান টিভি, ইয়ার্ল টিভি), যুগ্ম সচিব: সাভানি শেষাধি (মাওবিমা), কোষাধ্যক্ষ: কৃষ্ণ ডি. এদিরিচিংহে (অরুণা)।

কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন: মিথুন জয়াবর্ধনে (সিলন টুডে), নিধার্শনি বিক্রমসিংহে (এডিএ), ইশু বান্দারা (সানডে টাইমস), থিলাঙ্কা কনাকারতœা (ফ্রিল্যান্স), আকিলা নদীশানী বান্দারা (মোনারা) এবং দামিন্দা হার্শা পেরেরা (ডেইলি এফটি)।

নবগঠিত সাকজেএফ শ্রীলঙ্কা চ্যাপ্টার দেশের জরুরি পরিবেশগত উদ্বেগগুলি মোকাবিলা করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চলমান সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতি

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort