১৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদবিশেষ ফিচারজাতীয় পতাকা: গৌরবের প্রতীক, অবহেলার পাত্র নয়

জাতীয় পতাকা: গৌরবের প্রতীক, অবহেলার পাত্র নয়

আশরাফুল আলম মামুন

পৃথিবীর অনেক দেশের মতো সোজাসাপ্টা পথে একটি স্বাধীন পতাকার মালিক হতে পারেনি বাংলাদেশ। লাল-সবুজের গৌরবময় পতাকাটি অর্জনের জন্য বীর বাঙালিকে পাড়ি দিতে হয়েছে রক্তাক্ত ইতিহাসের এক মহাসমুদ্র। অগণিত তাজা রক্ত, আত্মত্যাগ ও দুর্বিষহ সংগ্রামের ফসল আমাদের এই জাতীয় পতাকা।

জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন — এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একটি জাতির আত্মমর্যাদার প্রকাশ। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল আমাদের জাতীয় পতাকা। সেই পতাকা এখন শুধু একটি কাপড় নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতার চেতনা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

কিন্তু আজ আমরা সেই প্রতীককে কতটুকু সম্মান করি? বিশেষ জাতীয় দিবস ছাড়া অধিকাংশ সময়েই জাতীয় পতাকা কেবল সরকারি অফিস-আদালতের ছাদেই সীমাবদ্ধ থাকে। সেখানে নিয়মিত পতাকা উত্তোলন হলেও, তার আকার এত ছোট হয় যে অনেক সময় চোখেই পড়ে না। আবার অনেক জায়গায় এত পুরনো ও বিবর্ণ পতাকা ওড়ে যে সেটি দেখে গর্ব নয়, বরং হতাশা জন্ম নেয়।

সম্প্রতি ভারত সফরকালে দেশটির বিভিন্ন শহরে সার্বক্ষণিকভাবে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা আমার দৃষ্টি কাড়ে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সামনে, খোলা প্রান্তরে কিংবা উঁচু টাওয়ারে প্রতিদিন, সবসময় ভারতের তেরঙা পতাকা গর্বভরে উড়ছে। এটি শুধু তাদের দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও কাজ করে।

আমার প্রশ্ন — আমরা কি পারি না আমাদের গৌরবের লাল-সবুজ পতাকাকে এমন সম্মানের জায়গায় নিয়ে যেতে?
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ থাকবে — গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায়, সড়ক দ্বীপে, উন্মুক্ত মাঠে, স্থায়ীভাবে উঁচু মাচাং বা টাওয়ারে যেন জাতীয় পতাকা উড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। যাতে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে, আমরা আমাদের গৌরবের পতাকাকে সম্মান জানাতে পারি — গর্ব করতে পারি বাংলাদেশি হিসেবে।

জাতীয় পতাকা কেবল একটি কাপড় নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক।
আসুন, এ প্রতীকের যথাযথ মর্যাদা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করি।

লেখক:

সিনিয়র চিত্রসাংবাদিক,
সময় টিভি,চট্টগ্রাম ব্যুরো

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort