নিউইয়র্কের জর্জ আইল্যান্ড পার্কে গত ১০ আগস্ট রবিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, নর্থ আমেরিকা ইনকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বনভোজন। এটি ছিল এক হৃদয়ের উৎসব, এক মিলনমেলা। সকাল থেকেই প্রকৃতি যেন অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য নিজেকে সাজিয়ে রেখেছিল। বাতাসের মৃদু ছোঁয়া, রোদে ঝলমলে আকাশ, আর মানুষের মুখে হাসির ঝলক-সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক আনন্দঘন পরিবেশ। সাবিনা শারমিন নিহারের সভাপতিত্বে বনভোজনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার প্রধান উপদেষ্টা জনাব পারভেজ গাজী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন পিকনিক
অনুষ্ঠানে কমিটির আহ্বায়ক ওয়াহিদুজ্জামান বকুল। আরো বক্তব্য রাখেন- মোহাম্মদ হাসেম, দিবাকর সেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, স্বপ্না ইমাম, ডাঃ সায়েরা হক, জনাব হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল সরকার, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সৈয়দ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সবুর, সন্দীপ সোসাইটির সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, শাহিদা হাই, মোকাররম আহমেদ, এবং চিটাগাং রাইজিং স্টারের সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন, আলী নূর, ফরহাদ হোসেন। সভাপতি সাবিনা শারমিন নিহার ও সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের
রাসেলের পরিচালনায়, পুরো বনভোজন অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। তাঁদের সহযোগিতা করেন শুভাশিস বড়ুয়া, ফারহানা আক্তার, মাকসুদা খানম, সাইফুল ইসলাম, ইকবাল হাসান, গোলাম মোহাম্মদ মুহিত, সাইফুল ইসলাম দিদার, মাহফুজুল হাসান কিশোর, শিলা, ফরিদা আক্তার, অনুপ দাস। বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। পুরস্কারের তালিকায় ছিল ৪৫ ইঞ্চি টিভি, ল্যাপটপ, আইফোন, আইপ্যাড, এয়ার ফ্রায়ার, মাইক্রোওয়েভ, স্ট্যান্ড ফ্যান। স্পনসরদের মধ্যে ছিলেন তারেক আব্দুল্লাহ, মাকসুদা খানম, জি.এম ফারুক, মাকসুদা হক চৌধুরী, গোলাম মোহাম্মদ মুনিত, মার্কস হোম কেয়ার, মামুন গ্রোসারী, চিটাগাং রাইজিং স্টারস-যাঁদের উদারতা ও ভালোবাসা এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পুরস্কার বিতরণ করেন কবিতা সেন, সঞ্জীব তালুকদার, তারেক আব্দুল্লাহ, মাকসুদা খানম, পারভেজ কাজী, মিনারা কাজী, দিবাকর সেন, অধ্যাপক
আখতার হোসেন, মোঃ আব্দুল আজিজ নাঈমী, অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত এবং ওয়াহিদুজ্জামান বকুল। এই আয়োজনকে সফল করতে বিশেষ অবদান রেখেছেন কবিতা সেন, সনজীব তালুকদার, মোঃ হুমায়ুন কবির, ডঃ ছায়েদা হক, আবদুল আজিজ নন্দী, অধ্যাপক আতাউর হোসেন, ডঃ আকশ, আবদুল কাদের মিয়া, আইমান নিজাম উদ্দিন, মাইফুজুর রহমান—যাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হয় অন্তরের গভীর থেকে। এই বনভোজন প্রমাণ করে দিয়েছে—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি পরিবার। যেখানে হাসি, গল্প, স্মৃতি আর ভালোবাসা একসাথে গাঁথা। এই মিলনমেলা আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ, আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে আত্মিক বন্ধন। প্রবাসে থেকেও আমরা ভুলে যাইনি আমাদের শেকড়, আমাদের মানুষ, আমাদের সম্পর্ক। এই দিনটি ছিল সেই স্মৃতির পুনর্জন্ম। আর এই আনন্দঘন দিনে সুরের জাদু
ছড়িয়ে দেন স্বপ্নীল সজীব। তাঁর কণ্ঠে ছিল স্নিগ্ধতা, তাঁর গানে ছিল আবেগের গভীরতা। আমরা যারা বাংলা সংস্কৃতির টানে বড় হয়েছি, তাঁদের জন্য সঙ্গীত মানেই অনুভবের ভাষা। আর সেই ভাষার অনুবাদক হয়ে স্বপ্নীল সজীব যেন হয়ে উঠেছিলেন আমাদের হৃদয়ের সুর। নিউ ইয়র্কসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেট থেকে দুই শতাধিক চবিয়ান ও অতিথি এই আয়োজনে যোগ দিয়ে অনুষ্ঠানকে করে তুলেছিলেন প্রাণবন্ত ও স্মরণীয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রতিটি স্মৃতি, প্রতিটি মুখ, প্রতিটি মুহূর্ত আজও আমাদের হৃদয়ে জ্বলজ্বল করে। আজকের এই আয়োজন… সেই সোনালি দিনের স্মৃতিগুলোকেই আবারও জাগিয়ে দিলো। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় ছিল— • বাস ছাড়ার সময় সকাল ৮টা থেকে ৯টা, চার্চ ম্যাকডোনাল্ড থেকে ওজন পার্কে স্টপ ওভার। • প্রাতঃরাশ সকাল ১০টা থেকে ১১টা • উদ্বোধন ১১:৩০টায় • বালক-বালিকার দৌঁড় প্রতিযোগিতা ১১:৪৫টায় • এ্যাপেটাইজার সার্ভ দুপুর ১২:৩০/১টা • আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি ১টায় • উন্মুক্ত মার্বেল দৌড় ১:৩০টায় • ফুটবল খেলা ২টায় • সুরে সঙ্গীতে স্বপ্নীল সজীব ২:৩০টায় • মধ্যাহ্নভোজ ৩:৩০টায় • নতুন এলামনাই পরিচিতি পর্ব ৪টায় • মিউজিক্যাল পিলো বিকাল ৪:৩০টায় • আমন্ত্রিত শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা বক্তব্য ৫টায় • প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ৫:৩০টায়ড • র্যাফেল ড্র ৬টায় • সভাপতি সাবিনা শারমিন নিহার ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি।
উৎসবে হৃদয়ের জাগরণ:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার বনভোজন
ওয়াহিদুজ্জামান বকুল,নর্থ আমেরিকা


