একটি স্মাট ফোন, যেন শিশুর বিকাশে সবচেয়ে বড় বাঁধা।
সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটিও মোবাইল দেখলে কান্না থামিয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে মোবাইল ফোনের দিকে।প্রযুক্তির অন্যতম সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম এখন মোবাইল। যখন থেকে শিশুরা মোবাইল ফোনকে বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে পেয়েছে, ঠিক সেদিন থেকেই বদলে গেছে তাদের শৈশব। হারিয়ে গেছে তাদের সৃজনশীলতা , কত না পাওয়া আনন্দ। খেতে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে, অবসরে, যখনি শিশুরা সময় পায়, তখনই যেন মোবাইল হাতে নেয়।মোবাইল তাদের একমাত্র সঙ্গী। সব সময় খিটখিটে স্বভাব, হাসি নেই তাদের, এভাবে চলতে থাকে বর্তমান সময়ের কিছু শিশুর দৈনন্দিন জীবন। আর যখনই তাদের এই শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটতে শুরু হয়, ঠিক তখনই শিশুর আচরণের মাঝে নানা প্রতিকূল অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়।
ধীরে ধীরে তারা একাকী হতে শুরু করে।তেমন কোন বন্ধু বান্ধব নেই তাদের। কারো সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না তাদের। চুপ থাকতেই বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করে সেই শিশুরা।
এমন কি খেলাধুলা, লেখাপড়া , কোন কাজেই তারা মনোনিবেশ করতে পারে না। এভাবে শিশুর বিকাশে একটি বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় প্রযুক্তি। শিশু বান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রযুক্তি একটি চ্যালেঞ্জ। তাই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কিছু ভিন্ন ধর্মী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। খোলা জায়গায় শিশুর খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। এবং শিশুকে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। যা শিশুর মেধা বিকাশে সহয়তা করবে।সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও নানা ধরনের প্রতিভা বিকাশ মূলক কার্যক্রম শিশুর ভবিষ্যতের পথ প্রদর্শক হয়ে কাজ করবে। শুধু তাই নয়, শিশুর মেধাকে আরো গঠনমূলক করে তৈরি হতে সাহায্য করবে।এছাড়া শিশুর সাথে
কাউন্সিলের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
শিশুর মনোজগৎ বুঝতে পারে ও এর প্রভাবে শিশু আরো বেশি সমৃদ্ধ হতে সক্ষম হবে, এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য।
তাই শিশুর সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হবে। তাকে সময় দিতে হবে।তবেই শিশুর আত্মবিশ্বাস অর্জন সহজ হবে।
তবে এই কাজগুলো শিশুর কাছের মানুষ করলে খুব ভালো হয়। এর সমাধান এর পরিপেক্ষিতে বলা যায়,
শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, অথবা সার্টিফাইড চাইল্ড কাউন্সিলর হতে পারে শিশুর জন্য সবচেয়ে উপযোগী একটি মাধ্যম। তবেই শিশুরা সমাজে দীপ্তি ছড়িয়ে নতুন এক বিশ্ব গড়ে তুলবে।কেননা নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিবে আজকের কোমলমতি শিশুরা।
লেখক: শিক্ষক
চট্টগ্রাম ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল


