প্রচ্ছদঅন্য খবরশেকড়ের টানে নিউইয়র্কে চবিয়ানদের মিলনমেলা।

শেকড়ের টানে নিউইয়র্কে চবিয়ানদের মিলনমেলা।

ওয়াহিদুজ্জামান বকুল,নর্থ আমেরিকা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন নর্থ আমেরিকার ৩০তম বনভোজন অনুষ্ঠিত। প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে শেকড়ের টান, পুরোনো বন্ধুত্ব আর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনক.-এর ৩০তম বনভোজন ২০২৬। গত ৩০ আগস্ট ২০২৬, রোববার, নিউইয়র্কের মনোরম Sunken Meadow State Park-এর East Orchard Pavilion-এ দিনব্যাপী এ আয়োজনে নিউইয়র্কসহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেট থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী, পরিবার ও অতিথি অংশ নেন। সকাল থেকেই বনভোজনস্থল পরিণত হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের এক প্রাণের মিলনমেলায়। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী, বন্ধু ও পরিচিতজনদের দেখা হওয়ায় পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও স্মৃতিচারণের আবহ। প্রকৃতির সবুজ সৌন্দর্য, নির্মল পরিবেশ আর প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে দিনটি হয়ে ওঠে ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয়। চার্চ ম্যাকডোনাল্ড, ওজন পার্ক ও জামাইকা থেকে নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বনভোজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরিবেশন করা হয় প্রাতঃরাশ। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় উদ্বোধনী পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রাণপুরুষ বিশিষ্ট আইনজীবী পারভেজ গাজী বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত, সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের রাসেল, প্রধান সমন্বয়ক ত্রিদিপ চৌধুরীসহ সংগঠনের উপদেষ্টা, কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি নারী ও তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল খেলাধুলা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতা, পুরুষ ও মহিলাদের বল নিক্ষেপ, ফুটবলসহ নানা আয়োজন ছিল অনুষ্ঠানে। দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত ফুটবল খেলায় অংশ নেন চবিয়ান ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বিকেলে মিউজিক্যাল পিলোসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও মেতে ওঠেন আনন্দে। প্রতিযোগিতাগুলো যেন সবাইকে আবার ফিরিয়ে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেই উচ্ছল দিনগুলোতে। বনভোজনের খাবারের আয়োজনেও ছিল বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। প্রাতঃরাশের পর মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশন করা হয় পোলাও, সাদা ভাত, গরু, খাসি ও মুরগির কোরমা, সালাদ, ও রসগোল্লাসহ নানা পদ। পাশাপাশি ছিল সারাদিনের চা-কফির ব্যবস্থা। প্রবাসের মাটিতে পরিচিত দেশীয় খাবার ও আপনজনদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়ার আনন্দ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তৈরি করে ভিন্ন এক আবেগঘন পরিবেশ। বনভোজনের সাংস্কৃতিক পর্বে বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন জনপ্রিয় ক্লোজআপ তারকা রাজীব ভট্টাচার্য। তাঁর কণ্ঠের গান অনুষ্ঠানে যোগ করে নতুন মাত্রা। বাংলা গানের পরিচিত সুরে উপস্থিত অনেকেই ফিরে যান তাঁদের কৈশোর ও তারুণ্যের স্মৃতিতে। প্রবাসের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি ও সংগীতকে ধারণ করার এমন আয়োজন উপস্থিত চবিয়ানদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও আবেগের সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানের শেষভাগে ছিল বহুল প্রতীক্ষিত র্যাফেল ড্র। এতে পুরস্কার হিসেবে ছিল Samsung Phone, Samsung 55-inch TV, Roku 50-inch TV, Samsung 43-inch TV, একাধিক HP Laptop, Apple iPad এবং Sentry Safe। আকর্ষণীয় এসব পুরস্কার নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন কবিতা সেন, সঞ্জীব তালুকদার, মাকসুদা খানম, পারভেজ কাজী, মিনারা কাজী, দিবাকর সেন, অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত এবং ওয়াহিদুজ্জামান বকুল। ৩০তম বনভোজনের মতো বৃহৎ আয়োজন সফল করতে সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি অনেক শুভানুধ্যায়ী, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মনসুর আহমেদ, দিবাকর সেন, কবিতা সেন, পারভেজ কাজী, সাবিনা শারমিন নিহার, অধ্যাপক মাহবুব মাওলা, মোহাম্মদ আলমগীর, অ্যাডভোকেট এম. এ. হামিদ এবং পরাণে আগ্রাবাদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জনাব খোরশেদ আলম বাবুসহ আরও অনেকে। এ ছাড়া বিভিন্ন পুরস্কারের স্পনসর হিসেবে ছিলেন তারেক আব্দুল্লাহ, মাকসুদা খানম, জি. এম. ফারুক, মাকসুদা হক চৌধুরী, অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত, তারেক আব্দুল্লাহ, মীর কাদের রাসেল, ইকবাল হোসেন, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ী। তাঁদের সহযোগিতা ও উদারতায় র্যাফেল ড্র ও পুরো আয়োজন আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জীবনের এক অমূল্য অধ্যায়। ক্যাম্পাসের দিনগুলো, বন্ধুদের আড্ডা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা আর অসংখ্য স্মৃতি আজও তাঁদের হৃদয়ে অমলিন। নিউইয়র্কের এই বনভোজন সেই পুরোনো স্মৃতিগুলোকে যেন আবার জীবন্ত করে তুলেছিল। কেউ খুঁজে পেয়েছেন হারিয়ে যাওয়া বন্ধুকে, কেউ নতুন করে পরিচিত হয়েছেন সহপাঠীর পরিবারের সঙ্গে। গল্প, আড্ডা, হাসি আর স্মৃতিচারণে কেটে যায় পুরো দিন। এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি প্রবাসে ছড়িয়ে থাকা চবিয়ানদের একটি বৃহৎ পরিবার। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থেকেও তাঁরা নিজেদের শেকড়, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্পর্ককে গভীরভাবে ধারণ করে চলেছেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রাতঃরাশ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, মধ্যাহ্নভোজ, মিউজিক্যাল পিলো, শুভানুধ্যায়ীদের বক্তব্য, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং র্যাফেল ড্র। সবশেষে সভাপতির ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। তবে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের হৃদয়ে থেকে যায় আনন্দের রেশ। ৩০তম বনভোজন ২০২৬ তাই শুধু একটি বনভোজন ছিল না, এটি ছিল বন্ধুত্ব, স্মৃতি, সংস্কৃতি ও শেকড়ের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপনের এক আবেগঘন উৎসব। নিউইয়র্কের সবুজ প্রান্তরে একদিনের এই মিলনমেলা যেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালি দিনগুলোকে আবারও ফিরিয়ে এনেছিল সবার হৃদয়ে। চার্চ ম্যাকডোনাল্ড, ওজন পার্ক ও জামাইকা থেকে নির্ধারিত সময়ে বাস ছাড়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বনভোজনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রাতঃরাশের পর সকাল সাড়ে ১১টায় শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার ৩০তম বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম প্রাণপুরুষ জনাব পারভেজ গাজী। বেলুন উড়িয়ে তিনি আনন্দঘন এই আয়োজনের শুভ সূচনা করেন॥ এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা সাবিনা শারমিন নিহার, সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিত, সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের রাসেল, প্রধান সমন্বয়ক ত্রিদিপ চৌধুরী, বনভোজন কমিটির আহ্বায়ক ইকবাল মোহাম্মদ, সদস্য সচিব মাহফুজুল হাসান কিশোর, সঞ্জীব তালুকদার, কবিতা সেন, জেবুন বেলা, খুকু আহমেদসহ সংগঠনের উপদেষ্টা, কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ॥ ৩০তম বনভোজনের এই আনন্দ ও স্মৃতি বেঁচে থাকুক আরও বহু বছর। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন সংগঠনের অন্যতম উপদেষ্টা সাবিনা শারমিন নিহার এবং সাধারণ সম্পাদক মীর কাদের রাসেল। তাঁদের সুশৃঙ্খল পরিচালনা ও সমন্বয়ে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ মুহিতের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বনভোজন ২০২৬-এর সফল সমাপ্তি হলো।

সর্বশেষ