২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
প্রচ্ছদবিশেষ ফিচারসেই শিশুদের আলোর ঠিকানা

সেই শিশুদের আলোর ঠিকানা

অনলাইন ডেস্ক

আদিত্য মল্লিক বয়স ১৮। আদিত্য মত অনেক বাবা মা হারা অনাথ ছেলেগুলোর জীবন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে একটা মাথা গোজার ঠাঁই এর অভাবে। এমন অবস্থায় বেশ বিপদে পড়েন আদিত্য মল্লিক মত অনেক অসহায় ছেলে। এমন দুচিন্তায় দিশেহারা অসহায় ছেলেগুলো ঠিকানা খুঁজে পায় লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম চট্টগ্রাম কেন্দ্র এর শিশু নিকেতন অনাথালয়ে।

অন্ধকারে যেন আলোর দিশা পায় তারা। এরপর থেকে তাদের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার অন্তর্গত নন্দীরহাটে; অতিপ্রাচীন একটি গ্রাম যা এখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১নম্বর ওয়ার্ডের অধীন ।

এখানে থেকেই অনেকজন শেষ করেন স্কুল জীবন। ভর্তি হন কলেজ। পড়াশোনা পাশাপাশি এখানে আগত ভক্তদের সেবাও করে তারা। আদিত্য মল্লিকের ৩০ জন ছেলের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম চট্টগ্রাম কেন্দ্র পরিচালিত ‘শিশু নিকেতন অনাথালয়’।

অনাথালয় কর্তৃপক্ষ জানান দীর্ঘ আট বছর ধরে চট্টগ্রাম ও পাহাড়ের অসহায় এতিম ছেলেদের নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে ১০০ জন ছেলে থাকার জন্য আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। তাদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য যা যা করণীয় সব করা হচ্ছে। এসব ছেলেদের পড়াশোনার পাশাপাশি দেয়া হয় বিভিন্ন রকমে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ। এছাড়া ধর্মীয় গীতাশিক্ষা, রান্নাবান্না ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। এসএসসি পাশের পর তাদের আত্মনিভর্রশীল করে গড়ে তুলতে কাজ করছে শিশু নিকেতন ।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটহাজারী থানার অন্তর্গত নন্দীরহাট গ্রামের যা ফতেয়াবাদ রেল জংশনের পাশেই শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম চট্টগ্রাম কেন্দ্র। এর পাশেই শিশু নিকেতন অনাথালয়টি অবস্থিত। মন্দিরের গেইট দিয়ে ভিতরে গেলেই বিশাল মাঠ। বিকেল হলেই সে মাঠে খেলাধুলায় মেতে উঠে শিশু-কিশোররা। তবে সন্ধ্যা নামতেই সন্ধ্যা আরতি বা প্রার্থনা করে পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে সবাই। এমনই সুশৃঙ্খল পরিবেশ বেড়ে উঠছে ৩০ জনের এই পরিবার। এখান থেকে এসএসসি পাশ করে পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা পথে যাত্রা হয় তাদের।

আদিত্য মল্লিক এবার এসএসসি শেষ করেছে। আদিত্য শিশু নিকেতনে প্রথম ছাত্র। আদিত্য ও সুদীপ্ত এই দু’জনকে নিয়ে এই শিশু নিকেতন অনাথলয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে মন্দিরের ‘ভগবান গাঙ্গুলী’ ভবনের তৃতীয় তলায় শিশু নিকেতনটি অবস্থিত।

শিশু নিকেতন অনাথালয়ের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ঝুলন কুমার দাশ বলেন, এই অনাথালয়টি প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন ডাক্তার বাসনা মুহুরী দিদি। এখানে সবাই অনাথ এবং কিছু ছেলে রয়েছে হতদরিদ্র পরিবারের। যাদের বেশি ভাগের মা বাবা কেউই নেই। এছাড়া অনাথালয়টি চলে বিভিন্ন দাতা সংস্থা এবং মানবিক মানুষের সহায়তা। এখানে ছেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি পড়শোনাসহ বিভিন্ন কর্মমুখী প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর ও মানুষের মত মানুষ করা চেষ্টা করছি আমরা।

সবশেষে এই শিশুদের নবজীবনের নবজাগরণের পথে উত্তরণ ঘটুক এইটা প্রত্যাশা করছি। একইসাথে এসব অনাথ ছেলেদের জন্য সমাজের প্রতিষ্ঠিত সুধীজনদের কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

 

সুমন গোস্বামী
সংবাদকর্মী, চট্টগ্রাম।

সর্বশেষ

sakarya escort bayan bayan Eskişehir escort